আসামির জামিন নামঞ্জুর

8

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামির জামিনের আদেশ ফিরিয়ে দিয়েছেন আদালতের বিচারক। একইসাথে ভিডিও ছড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঞার আদালত এ আদেশ দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূইয়া, সহকারী প্রক্টর অরুপ বড়ুয়া ও মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, নূর হোসেন শাওন নামে একজন আসামি জামিন চেয়েছিল। আসামি ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। ভিকটিম শনাক্ত করেছে। এছাড়াও বাকি পাঁচ আসামিকেও ভিকটিম শনাক্ত করেছে। আজকে (বুধবার) আদালতে ভিকটিমকে বিচারক জিজ্ঞেস করেন ডকে দাঁড়ানো আসামি সেই দিন রাতে উপস্থিত ছিলেন কিনা? ভিকটিম বলেছে, সেই রাতে ছিল। আসামি সর্বপ্রথম ভিকটিমের পিঠে আঘাতও করেছে।
তিনি আরো বলেন, আদালত সরাসরি মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সব ভিডিও উদ্ধার করতে এবং এটা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, মামলায় ভিকটিমের ইজ্জত যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যার কারণে মামলাটি সর্বশেষ শুনানি করেছি। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। পরে আসামি নূর হোসেন শাওনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত: গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঞার আদালতে নূর হোসেন শাওন নামে আসামির জামিন শুনানিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে তলব করা হয়। একইদিন যৌন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে আদালতে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আসামি নুর হোসেন শাওন হাটহাজারী সরকারি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র। গত ১৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল সংলগ্ন এলাকায় ৫ দুর্বৃত্তের হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন এক ছাত্রী। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু বাধা দিলে তাকেসহ ওই ছাত্রীকে মারধর করে বখাটেরা। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এছাড়া ওই ছাত্রীকে একটু দূরে নিয়ে ভিডিও ধারণ করে বলেও জানান ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তিনি হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তথ্যমতে, গত ২২ জুলাই রাতে বিভিন্ন স্থান অভিযান চালিয়ে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭। তারা হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের মো. আজিম, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ ২য় বর্ষের নুরুল আবছার বাবু, হাটহাজারী সরকারি কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষের ছাত্র নুর হোসেন শাওন ও ২য় বর্ষের মাসুদ রানা। ঘটনার পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে তাদের বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সাইফুল নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম জিহান সানজিদার আদালতে তাদের হাজির করা হলে ৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই আসামিদের মধ্যে গতকাল আদালতে শাওনের জামিন চাওয়া হয়। জবাবে আদালত উল্লেখিত আদেশ দিয়েছেন।