চট্টগ্রামের ১২ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গেল এক বছরে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬ হাজার ২০৬ মামলা। ১০ হাজার ৫৭৯ জন সাক্ষী এসব মামলা নিষ্পত্তিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিচারকদের সামনে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। অথচ করোনা সংক্রমণের কারণে ৬ মাস আদালতের কার্যক্রম সীমিত ছিল। অ্যাকচুয়াল কোর্টের বদলে ছিল ভার্চুয়াল কোর্ট।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মোট মামলা ও নিষ্পত্তির তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত ১২ আদালতে মোট মামলা ছিল ২০ হাজার ১২৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১ হাজার ৯৩৯টি। এসব মামলা নিষ্পত্তিতে সাক্ষী হিসেবে আদালতের সামনে দাঁড়িয়েছেন ২ হাজার ১০১ জন।
এসব মামলা নিষ্পত্তিতে কাজ করা বিচারকরা হলেন, মুখ্য বিচারিক হাকিম বেগম কামরুন নাহার রুমি, অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ফরিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র বিচারিক হাকিম কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার ও মো. হেলাল উদ্দিন, স›দ্বীপ চৌকি আদালতের বিচারিক হাকিম মো. আকবর হোসেন, বাঁশখালী চৌকি আদালতের বিচারক মাইনুল ইসলাম, পটিয়া চৌকি আদালতের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার, শিপলু কুমার দে, জিহাদ সানজিদা ও বন আদালতের বিচারক আঞ্জুমান আরা। এর মধ্যে করোনাকালে সাহসিকতার সাথে দ্রুত বিচারকাজ পরিচালনা করার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি বিচারক জিহান সানজিদা, কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার, শিপলু কুমার দে, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার ও বিশ্বেশ্বর সিংহকে পুরস্কৃত করেছেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমি।
পুরস্কৃত হওয়া উল্লেখিত পাঁচ বিচারকের মধ্যে জিহাদ সানজিদা শুধু গত জানুয়ারি মাসেই নিষ্পত্তি করেছেন ১৮৫টি মামলা। শিপলু কুমার দে করেছেন ৮৯টি, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার নিষ্পত্তি করেছেন ১৭৯টি, বিশ্বেশ্বর সিংহ ৭৭ ও কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার নিষ্পত্তি করেছেন ৭৫টি মামলা। প্রায় একইভাবে গত এক বছরে মানতালে আন্তরিকতার সাথে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন পুরস্কৃত হওয়া এই পাঁচ বিচারক।
এদিকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত জানুয়ারি মাস শেষে ১২ আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১৮ হাজার ১৮৯টি। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে ১৩৫ মামলা। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচার ঝুলে আছে আরো ১ হাজার ১০১টি মামলার।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর পিপি এডভোকেট আবিদ হোসেন জানান, মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুততার সাথে এগিয়েছে উল্লেখিত আদালতগুলো। বিশেষ করে করোনার সময়ে দ্রুততা ও আন্তরিকতার সাথে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে বিচারপ্রার্থীরা।



