ছোটন জানতে চায় মা-বাবার পরিচয়

0
ছোটন জানতে চায় মা-বাবার পরিচয়

মো. বায়েজিদ বাহার ছোটন। ১৭-১৮ বছরের সম্ভাবনাময় এক স্বপ্নবান তরুণ। তার সামনে ভবিষ্যতের বর্ণাঢ্য এক জীবনের হাতছানি। কিন্তু মানব-সৃষ্ট এক অশুভ চক্রান্তের কারণে আজ সে এক দুঃসহ ও বর্ণনাতীত বেদনাময় প্রশ্নের মুখোমুখি। ছোটন আজ অপরিসীম গøানি ও হতাশা নিয়ে খুঁজে ফিরছে তার আত্মপরিচয়ের হদিশ। সে জানতে চায় তার মা-বাবার নাম, পরিচয়, তাদের প্রকৃত ঠিকানা। কিন্তু কেন? এর উত্তর জানতে চাইলে ফিরে যেতে হবে ১৭ বছর আগে।
২০০৩ সালের ৮ আগস্ট। খালি পা, কালো গোলাকার চেহারার দরিদ্র পরিবারের একটি দেড়-দু’বছরের নিষ্পাপ ও অসহায় শিশু খুলশী থানা কর্তৃক উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়। শিশুটি রংপুর জেলার নীলফামারির কিশোরগঞ্জ থেকে শিশু-পাচারকারী কর্তৃক অপহৃত হয়েছে। তারপর নানা হাত ঘুরে এবং বদল হয়ে আইন প্রয়োগকারী তারপর নানা হাত ঘুরে এবং বদল হয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে এসে পড়ে।
অতঃপর খুলশী থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের নির্দেশে চট্টগ্রাম কারাগারের ‘সেফ কাস্টডি’তে স্থানান্তর করা হয়। ওই মামলার কৌঁসুলি এডভোকেট তুতুল বাহার শিশুটির অসহায়ত্ব ও অন্ধকার-অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দয়াপরবশ হয়ে মানবিক কারণে তৎকালীন বিচারকের কাছে তাকে জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। তখনকার জেলা ও দায়রা জজ চট্টগ্রাম আদালতের পরামর্শক্রমে শিশুটিকে এডভোকেট তুতুল বাহারের কাছে ২০ হাজার টাকার বন্ডে জিম্মা দেন। তখন বাচ্চাটির বয়স ২ বছর। তুতুল বাহার শিশুটির নাম রাখেন মো. বায়েজিদ বাহার ওরফে ছোটন। তারপর মায়ের মমতা ও পরিচর্যায় এডভোকেট তুতুল বাহার ও তার বড় বোন সম্প্রতি প্রয়াত কবি লুলুল বাহার ছোটনকে সযত্নে লালন-পালন করতে থাকেন। তাকে ব্যয়বহুল বোর্ডিং স্কুলে রেখে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো হয়। মেধাবী ছোটন এখন একটি বেসরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী। বয়স বৃদ্ধি এবং শিক্ষার আলোয় কিছুটা পরিণত হওয়ার পর ছোটন এখন আত্মপরিচয়ের ঠিকানা তথা তার প্রকৃত অতীত জানতে না পেরে যন্ত্রণাবিদ্ধ। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মো. বায়েজিদ বাহার ছোটনের প্রকৃত পরিচয়, মা-বাবার নাম-ঠিকানা ইত্যাদি নিম্ন ঠিকানায় বা ফোন নম্বরে জানালে এক অসহায় প্রাণ আত্মপরিচয়হীনতার চরম গ্লানি থেকে রক্ষা পাবে।

এডভোকেট তুতুল বাহার, রুম নং- ২৫৯ (২য় তলা), বার এনেক্স ভবন-১, কোর্টহিল, চট্টগ্রাম। ফোন – ০১৭১৯-১৭৩৩১০। বিজ্ঞপ্তি