রক্তাক্ত দিনের পর মিয়ানমার জুড়ে শোক

0
রক্তাক্ত দিনের পর মিয়ানমার জুড়ে শোক

মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বিক্ষাভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১১৪ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে শোক পালন করছে সামরিক জান্তা বিরোধীরা। রবিবার এই শোকের মাঝেই সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর ‘হত্যাকাÐে’ শিশুরাও রেহাই পায়নি। জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যে, সামরিক বাহিনী ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম জোট জেনারেল স্ট্রাইক কমিটি অব ন্যাশনালিস্ট (জিএসসিএন) এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছে, ‘আমাদের বীরদের সালাম জানাই, যারা এই বিপ্লবে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং আমরা অবশ্যই এই বিপ্লবে জয়ী হব।’
শনিবার সামরিক বাহিনী ও আদিবাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সংখ্যালঘু কারেন স¤প্রদায়ের একটি গ্রামে মিয়ানমারের সামরিক বিমানের হামলায় অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সংগঠন।
এরআগে সশস্ত্র কারেন গোষ্ঠী- কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের একটি অংশ থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর একটি চৌকি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে, যেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়। তারপরই এই বিমান হামলা চালানো হয়। বিমান হামলার পর গ্রামবাসী জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।
এই হামলা ও হত্যার বিষয়ে অবশ্য সামরিক জান্তার মুখপাত্রের কোনো বক্তব্য দেয়নি। সামরিক প্রধান জেনারেল মিং অং হ্লাইং শনিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালে বলেন, সামরিক বাহিনী নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ‘গণতন্ত্র পুনর্বহালে’ কাজ করবে।
অনলাইন সংবাদ পোর্টাল মিয়ানমার নাও জানিয়েছে, শনিবারের দমন অভিযানে দেশজুড়ে ১১৪ জন নিহত হয়। তাদের ৪০ জন মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ে মারা গেছেন, ১৩ বছরের এক কিশোরীও রয়েছে তাদের মধ্যে। বাণিজ্যিক নগরী ইয়াংগনে নিহত হয়েছে ২৭ জন। ১৩ বছরের আরেক কিশোরী নিহত হয়েছে সাগাইং অঞ্চলে। কাচিন অঞ্চল থেকেও মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১ ফেব্রæয়ারির অভ্যুত্থানের পর এ নিয়ে দেশটিতে সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির সংখ্যা ৪৪০ ছাড়িয়েছে।
‘এই রক্তপাত আতঙ্কজনক’
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টমাস ভাজদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃবিতে লিখেছেন: ‘এই রক্তপাত আতঙ্কজনক। মিয়ানমারের নাগরিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে: তারা সামরিক শাসনের অধীনে থাকতে চায় না।’ আর মিয়ানমারে ইইউ প্রতিনিধি দল বলেছে, ‘শনিবারের দিনটি নৃশংসতা আর অসম্মানের চিরস্থায়ী চিহ্ন হয়ে থেকে যাবে।’