রাতের আঁধারে বালিয়াড়িতে নির্মাণ হল শতাধিক দোকান

0
রাতের আঁধারে বালিয়াড়িতে নির্মাণ হল শতাধিক দোকান

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার

রাতের আঁধারে দখল করা হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি। এনিয়ে গত দুদিন ধরে তুলকালাম চলছে। রাতারাতি বালিয়াড়ি দখল করে শতাধিক দোকান বসানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এই দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অভিযোগ আছে, কক্সবাজারের বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সৈকতে ৩০০ নতুন কার্ড অনুমোদন দিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন। পরিবেশ আন্দোলনের নেতা করিম উল্লাহর দাবি, প্রতিটি কার্ডের জন্য ৩ লাখ টাকা করে নেওয়া হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় ‘অভিনন্দন দাতারাও’ প্রায় ৯০ লাখ টাকা ভাগ পেয়েছেন।
গত শুক্রবার রাত থেকে কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দোকান বসানো শুরু হয়। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন বসানো দোকানগুলো একই ধরনের রঙ ও নকশায় তৈরি। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী এ কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাতের আঁধারে দোকান বসাতে গিয়ে দখলদাররা অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ে কিছু বলার সাহস পায়নি।
জয়নাল নামের এক দোকানদার সরাসরি স্বীকার করে জানান, তিনি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতিপত্র কিনেছেন। তার ভাষ্য, প্রশাসনকে টাকা দিয়েই দোকান বসানোর অনুমতি পান। তবে অনুমতিপত্রে শর্ত আছে- বালিয়াড়ি বা পরিবেশ নষ্ট করে কোনো দোকান বসানো যাবে না। সেই শর্তের তোয়াক্কা না করে দখল চলছে বলে অভিযোগ উঠছে।
দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা কক্সবাজারে আসেন মূলত সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু হঠাৎ করেই শত শত দোকান বসে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
সুগন্ধা ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল উদ্দিন অনুমতিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যদি বৈধ হন, তাহলে রাতের আঁধারে কেন দোকান বসাতে হবে? এটা অন্যায়। একটি দলের সুবিধাভোগী একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে দোকান বসাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আলোচিত দুই ব্যক্তি জাকির হোসেন এবং নূরুল হুদা ওরফে গুরামিয়া- এই দখলযজ্ঞের মূল নিয়ন্ত্রক। সম্প্রতি তারা নতুন করে ৭৪টি কার্ড কিনে রাতের আঁধারে দোকান বসানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল হুদা। আরেক অভিযুক্ত জাকির হোসেন দাবি করেছেন, তার কেবল একটি দোকান আছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। নতুন জেলা প্রশাসক এখনও যোগদান করেননি। পরিবেশবাদীদের মতে, এই শূন্যতার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে সিন্ডিকেট। বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, নতুন ডিসি না আসায় গোপন অনুমতি নিয়ে দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান বলেন, দোকান বসানো ব্যক্তিদের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, অবৈধভাবে দোকান বসানোর কোনো সুযোগ নেই। অনুমতিপত্রে স্পষ্ট শর্ত আছে- বালিয়াড়ি দখল করা যাবে না।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানিয়েছেন, সৈকতের বালিয়াড়িতে দোকান বসানো সমর্থনযোগ্য নয়। তাদের কাগজপত্র যাচাই চলছে। বৈধ হলে কোথায় বসবে তা প্রশাসন নির্ধারণ করবে। তবে বালিয়াড়িতে বসানো দোকান অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে।