‘ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনা নিরসনে সংকট ব্যবস্থাপনা বিধি জরুরি’

0
‘ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনা নিরসনে সংকট ব্যবস্থাপনা বিধি জরুরি’

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংকট ব্যবস্থাপনা বিধির উন্নয়ন ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন গবেষক ও উপদেষ্টা ইয়াও ইয়ুনঝু। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কৌশলগত আস্থা নির্মাণের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ২০ মার্চ এক উন্নয়ন ফোরামে এমন মত দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮ মার্চ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদেরকে তুমুল বাগযুদ্ধে জড়াতে দেখা গেছে। ১৮ মার্চ আলাস্কার অ্যাংকরেজে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলতে দেখা গেছে তাদের। চীনা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বেইজিং-এর ওপর আক্রমণ চালাতে অন্য দেশগুলোকে উস্কে দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
আর মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনায় এসেছে চীন। ২০ মার্চ চীনা উন্নয়ন ফোরামে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও নীতি নির্ধারকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন জেনারেল ইয়াও ইয়ুনঝু। তিনি বলেন, ‘অ্যাংকরেজের বৈঠক থেকে বুঝে গেছি, এখন আমরা আর কৌশলগত আস্থা অর্জনের ওপর ভরসা করে বসে থাকতে পারি না। সংকট এড়ানোর জন্য আমাদেরকে মুখোমুখি বৈঠকে আচরণগত বিধিসহ সংকট ব্যবস্থাপনা বিধির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’
ইয়াও হলেন চীনের অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেস-এর অধীন পরিচালিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার অন চায়না-আমেরিকা ডিফেন্স রিলেশন্স-এর ডিরেক্টর ইমেরিটাস। শনিবারের ফোরামে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচিত কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য এমন ধারণা তৈরি করা যা স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার ধারণার চেয়ে আরও বেশি বিস্তৃত। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যে কৌশলগত স্থিতিশীলতার ধারণা তৈরি করা হয়েছিল তা গড়ে উঠেছিল পারস্পরিক পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে।
ইয়াও মনে করেন, ক্রমবিকাশমান প্রযুক্তি যেমন-সাইবার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যাবে, সামরিক বাহিনী কিভাবে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে তার মানদÐ যৌথবাবে নির্ধারণ করা। ইয়াও সতর্ক করে বলেন, এ মানদÐ নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একে অপরকে বাদ দিলে ‘চরম পরিণতি’র শিকার হতে হবে।