করোনা পরবর্তী জটিলতায় মৃত্যু ডা. গোলাম মর্তুজার

0
করোনা পরবর্তী  জটিলতায় মৃত্যু  ডা. গোলাম মর্তুজার

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের পর সুস্থ হয়েও পরবর্তী জটিলতায় শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গোলাম মর্তুজা হারুন মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন) গত শুক্রবার (২৮ মে) দিবাগত রাত তিনটার দিকে সিএসসিআর হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ডা. গোলাম মর্তুজা ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল শনিবার (২৯ মে) বাদ আসর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পুলক পাড়িয়াল জানান, গত ১২ মে ডা. গোলাম মর্তুজা হারুনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এরপর ২২ মে তিনি সুস্থ হন। কিন্তু ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
ডা. গোলাম মর্তুজা হারুন ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও উদ্যোক্তা। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামে প্রথম বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার শেভরন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ভালো ক্রিকেটারও ছিলেন। এর সুবাদে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০০৩-২০০৯ সাল পর্যন্ত বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি, ১৯৮৭-২০১৭ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি, ২০০০-২০০৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি এবং নগর বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ২০০৬ সালে রিহ্যাবের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
এই চিকিৎসক নেতার মরদেহ নিজের প্রতিষ্ঠিত শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে সেখানে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শেভরন পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিএমএ, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর), ড্যাব, শেভরন পরিবারসহ চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন।
শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক সিটি মেয়র ও সিজেকেএস এর সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
পৃথক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।