মামলার মারপ্যাঁচে অরক্ষিত ১১ বছর!

0
মামলার মারপ্যাঁচে  অরক্ষিত ১১ বছর!

৯ কোটি লিটার পানি উৎপাদনকারী বহদ্দারহাটস্থ চট্টগ্রাম ওয়াসার কালুরঘাট আইরন রিমুভাল প্ল্যান্ট (আইআরপি) গত ১১ বছর ধরে অরক্ষিত! কর্মকর্তারাও এই প্ল্যান্টে উৎপাদিত পানি নিয়ে শঙ্কিত। সুরক্ষিত সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে যে কেউ প্ল্যান্টে প্রবেশ ও বের হতে পারছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী শওকত ইকবাল ও তার লোকজনের বাধা এবং আদালতে বারবার মামলা ঠুকে দেয়ার কারণে এ প্ল্যান্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না গত ১১ বছর। ওয়াসার এ প্ল্যান্টের পাশে নিজের জমি রয়েছে- এমনটা দাবি করে আসছিলেন উল্লেখিত ব্যক্তি। প্ল্যান্টের জমির কিছু অংশে তার জমি রয়েছে দাবি করে, তা দখলের চেষ্টা করছেন তিনি গত ১১ বছর ধরে।
এ বিষয়ে ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, বহদ্দারহাটস্থ কালুরঘাট আইআরপি ও বুস্টার স্টেশনে প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি উৎপন্ন হয়। চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, চট্টগ্রাম মেডিকেল, মেহেদীবাগ, বাকলিয়া, কোতোয়ালী, সদরঘাট, আন্দরকিল্লা, জামালখানসহ বিশাল এলাকায় এ প্ল্যান্ট থেকে পানি সরবরাহ করা হয়।
৯ একর ২৩ কাঠা জায়গার উপর গড়ে তোলা এ বিশাল প্ল্যান্টের চারদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় পানির নিরাপত্তা নেই, বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, প্ল্যান্টটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। প্ল্যান্টের পানিতে কেউ বিষ মিশিয়ে দিলে ওয়াসার পানি ব্যবহারকারীরা জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন।
এ বিষয়ে গত ১০ ও ১৩ মার্চ ওয়াসার কালুরঘাট আইআরপি ও বুস্টার স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌমিত পাল পৃথক দুইটি সাধারণ ডায়েরি করেন চান্দগাঁও থানায়। জিডিতে জীবন ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াসা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১০ সালে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে প্রভাবশালী শওকত ইকবাল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মিস মামলা করেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) চান্দগাঁও সার্কেল এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত শওকত ইকবালের দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালত ওয়াসার পক্ষে রায় দেন। রায় পেয়ে ওয়াসা ফের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করলে আগের মামলার তথ্য গোপন করে ৪ মার্চ তারিখে ওয়াসার বিপক্ষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আরেকটি মিস মামলা দায়ের করেন। আদালত গত ৮ মার্চ তারিখে এ মামলাটিও খারিজ করে দেন। পরে তিনি আবার ৯ মার্চ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ওয়াসার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ওয়াসাকে কারণ দর্শাতে বলেন ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমিন। গতকাল রবিবার মামলার ধার্য তারিখে পিটিশন দিয়ে কারণ দর্শানোর জবাব দাখিলের মেয়াদ আরো ৭ দিন বাড়িয়ে নিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গতকাল রবিবার শওকতের লোকজন ওয়াসার শ্রমিকদের কাজে বাঁধা দিতে আসলে সেখানে দায়িত্বরত ওয়াসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মোস্তফার নেতৃত্বে চলা ভ্রাম্যমাণ আদালত দুইজনকে আটক করে। বিকেলে অবশ্য মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় দুইজনকে।
এ বিষয়ে ওয়াসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মোস্তফা জানান, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ করতে আমাকে এসে হুমকি দিচ্ছিলেন স্থানীয় অলি আহম্মদসহ দুই ব্যক্তি। জায়গার মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আদালতের আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হলেও এ বিষয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয় শওকত ইকবালের। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে এ প্ল্যান্টটি নিয়মিতভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, নগরীতে বর্তমানে পানির চাহিদা রয়েছে দৈনিক ৪২ কোটি লিটার। এর বিপরীতে পানি উৎপাদিত হচ্ছে ৩৬ কোটি লিটার।