ভোট হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে

0
ভোট হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ‘কোনো ভোট হয়নি’ বলে মনে করছে বিএনপি। যেখানে নির্বাচন হয়নি, সেখানে নির্বাচন প্রত্যাখান করার কোন প্রশ্নও নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয় মাঠে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হয়নি, হয়েছে আওয়ামী প্রশাসন, আওয়ামী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (পুলিশ) এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। যেটা নির্বাচনই হয় নাই, সেটা প্রত্যাখানের কি আছে। চট্টগ্রামে কোন নির্বাচন হয়নি, তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন তাদের দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। অবৈধ সরকারের অধীনে, অবৈধ নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপির নির্বাচন করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল- আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমাদের কমিটমেন্ট গণতন্ত্রের প্রতি। এজন্য সব জেনেশুনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তত একটি বিষয়ে আনন্দিত, সাংবাদিকরা কেউ আহত হননি। আপনাদের কেউ মারধর করেনি, এজন্য আমি সন্তুষ্ট। আওয়ামী পুলিশ বাহিনী শতভাগের চেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছে ভোট কারচুপি করতে। আজকের নির্বাচনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি মামলা ও কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। দুই-তিন দিনে পুরো চট্টগ্রাম সন্ত্রাসের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রামের উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত নিয়ে এসেছে। খোলামেলাভাবে তারা অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে। নির্বাচনে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ছিল বহিরাগতদের আনাগোনা। তারা চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচনে পাঁচশ’র বেশি কেন্দ্র দখল করেছে। কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি আমাদের দলীয় কর্মী, এজেন্টদের মারধর করেছে এবং বের করে দিয়েছে। সিটি নির্বাচনকে ঘিরে কমপক্ষে ২০টি মামলায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করেছে।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ইভিএমে মক ভোটিং করেছে। এবার তারা রাতে ইভিএমে ভোটও চুরি করেছে। কিছু মেশিনে ধানের শীষের প্রতীকও ছিল না। কিছুতে ধানের শীষে ভোট দিলে আম প্রতীকে ভোট যাচ্ছে। তারা ইভিএমকে পুরোপুরি ব্যবহার করেছে ভোট চুরিতে। যারা ভোট চুরি-ডাকাতি করেছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। এ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই হয় না। একটি নিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহবায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচন আওয়ামী লীগের সাথে হয়নি, হয়েছে প্রশাসনের সাথে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে। নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট, জনগণ সম্পূর্ণ অসহায় ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিয়েছিলাম। তাকে ব্যবস্থা নিতেও বলেছি। বর্তমান সরকার নির্বাচনকে প্রহসনের, ভোট ডাকাতির কালচারে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, পুলিশের উৎসাহী কর্মকর্তারা কীভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে দেবে এ চিন্তাই যেন তাদের মধ্যে কাজ করেছে। আমাদের এজেন্টদের যখন বের করে দিচ্ছিল, তখন পুলিশ প্রশাসনের লোকজন কোন কথাই বলেনি। তারা বলেছে আমরা কিছুই করতে পারব না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, নগর বিএনপির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।