সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ডে বিটকয়েন

7

ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দাম এখন ৭১ হাজার ডলারের ওপরে, যা এর সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম। এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ হাজার ডলার দাম বেড়েছে ডিজিটাল মুদ্রাটির। এ উত্থান মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের থেকে আসা প্রচুর অর্থের কারণে হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট।
জানুয়ারিতে, ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিটকয়েনের জন্য প্রথম ‘স্পট এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড’ বা ‘ইটিএফ’ অনুমোদন করে, যা ‘বø্যাকরক’ বা ‘ফিডেলিটি’র মতো বড় বিনিয়োগ কোম্পানিগুলোর থেকে আসা কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেয়।
নতুন মূল্যের এ রেকর্ড এমন এক সময়ে এসেছে যখন লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ নিশ্চিত করেছে তারা পরের মাস থেকে বিটকয়েন ‘এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড নোট’ বা ইটিএন-এর জন্য আবেদন গ্রহণ করা শুরু করবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্যান্য কয়েকটি শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রাও একই রকম লাভ দেখেছে। গত সপ্তাহ থেকে ইথেরিয়াম (ইটিএইচ) ও সোলানা (এসওএল) উভয়ের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
ক্রিপ্টো বাজার বিশ্লেষকরা বিটকয়েনের আসন্ন ‘হাভিং’ বা ‘অর্ধেক’ হয়ে যাওয়ার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। ডিজিটাল মুদ্রার ‘মাইনিং’ বা তৈরি অর্ধেকে নেমে আসার লাভ সম্ভবত আগামি মাসে দেখতে পাওয়া যাবে।
সরবরাহে সীমাবদ্ধতার সঙ্গে প্রথাগত বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার অর্থ, এ খাতের কিছু পরিসংখ্যান আরও দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। খবর বিডিনিউজের
‘সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ভাঙার পর, আমরা এখন আশা করি বিটকয়েন এপ্রিলের ‘অর্ধেক’ হওয়ার ঘটনা পর্যন্ত আরও বড় আকারে ব্যবসা করবে। যদি ‘ইউএস স্পট বিটকয়েন’ ইটিএফের গতি শক্তিশালী থাকে, এ বছরে ১ লাখ ডলারও বিটকয়েনের জন্য নাগালের বাইরে নয়’- ইনডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন ডিজিটাল অ্যাসেট ম্যানেজার টাইর ক্যাপিটালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এড হিন্দি।
তিনি বলেন, ‘আমরা জুন বা জুলাই মাসে দুর্বল বাজারের অনুমান করি কারণ এফইডি নির্ধারিত দাম কমানো শুরু করবে। আমরা অপরিচিত খাতে ব্যবসা করার কারণে চরম অস্থিরতার সম্ভাবনাই বেশি’।
বিটকয়েন শীর্ষ দামে পৌঁছানোর পরে সাধারণত মূল্য সংশোধন করা হয়ে থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ইনডিপেন্ডেন্ট।
উদাহরণ হিসাবে, ২০২১ সাল ছিল বিটকয়েনের রেকর্ড ভাঙার আরেক বছর। সে সময়ে মাত্র ২ বছরের মধ্যে বিটকয়েনের দাম ৫ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৬৮ হাজার ডলারে পৌঁছায়, এবং পরের মাসগুলোতে দাম আবারও ২০ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে।