শেষ ম্যাচে দাপুটে জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

12

পূর্বদেশ ডেস্ক

প্রথম ওভারে তিন বাউন্ডারি। তৃতীয় ওভারে ক্যাচ হাতছাড়া। শুরুতেই যেন এলোমেলো বাংলাদেশ। তবে সেই সময়টা দীর্ঘায়িত হলো না বেশি। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দ্রুতই গুছিয়ে নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে প্রবলভাবে চেপে ধরল বাংলাদেশ। সেই চাপে হাঁসফাঁস করে একের পর এক উইকেট হারাল আইরিশরা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে উঠল এক তরফা।
শেষ টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল বাংলাদেশ। খবর বিডিনিউজের।
চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দিন-রাতের লড়াইয়ে রান উঠেছিল বেশ। তবে তৃতীয় ম্যাচ গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয় দুপুর ২টায়। টস জিতে শুরুতে ঝড়ের পর আইরিশ ব্যাটসম্যানরা ধুঁকতে থাকে। ইনিংস শেষ হয় তাদের স্রফে ১১৭ রানেই।
আগের দুই ম্যাচে উইকেট না পাওয়া মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ম্যাচে শিকার করেন তিন উইকেট। একাদশে ফেরার ম্যাচে তিন উইকেট নেন রিশাদ হোসেনও। ফিল্ডিংয়ে ৫টি ক্যাচ নিয়ে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন তানজিদ হাসান।
তানজিদ পরে ব্যাট হাতেও ছিলেন দলের সেরা। অপরাজিত ফিফটি উপহার দেন বাঁহাতি ওপেনার। বাংলাদেশ জিতে যায় ৩৮ বল বাকি রেখে।
আগের ম্যাচের মতোই শেখ মেহেদি হাসানের প্রথম ওভারে তিন বাউন্ডারিতে শুরু করে আয়ারল্যান্ড। সেদিন ব্যাটসম্যান ছিলেন টিম টেক্টর, গতকাল পল স্টার্লিং। তৃতীয় ওভারে নিজের বলে ক্যাচ ছেড়ে দেন এই স্টার্লিংয়েরই। প্রথম দুই ওভারে স্টার্লিংয়ের চারটি বাউন্ডারির পর তৃতীয় ওভারে জেগে ওঠেন টিম টেক্টর। শরিফুল ইসলামকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি আলগা বল পেয়ে। বাঁহাতি পেসার অবশ্য ফিরে আসেন প্রবলভাবে। দারুণ ডেলিভারিতে ওভারের শেষ বলে বোল্ড করে দেন টেক্টরকে (১০ বলে ১৭)। পরের ওভারে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে স্টার্লিংয়ের ছক্কা ও চারে আইরিশদের পঞ্চাশ চলে আসে পাঁচ ওভারেই।
এরপরই বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। মুস্তাফিজ রহমান আক্রমণে এসেই তৃতীয় বলেই দেখা পান উইকেটের। হ্যারি টেক্টর ডিফেন্স করলেও বল গড়িয়ে যায় পেছনে। তিনি চেষ্টা করেছিলেন পা দিয়ে ঠেকাতে, কিন্তু পেরে ওঠেননি। বল আলতো করে স্টাম্প ছুঁয়ে ফেলে দেয় বেলস।
আগের ম্যাচের মতোই প্রথম ওভারে খরুচে শেখ মেহেদি পরে পুষিয়ে দেন। পাওয়ার প্লে শেষে বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে ফেরান তিনি লর্কান টাকারকে। এরপর দুই প্রান্তে রিশাদ ও শেখ মেহেদির আঁটসাঁট বোলিংয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি আইরিশ ব্যাটসম্যানরা। বাউন্ডারি বন্ধ হয়ে যায়। উইকেট ধরা দিতে থাকে।
প্রথম ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তোলা দল পরের ৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬ রান।
অধিনায়ক স্টার্লিং তখনও ছিলেন দলের আশা হয়ে। তাকেও ফিরিয়ে দেন রিশাদ। দুর্দান্ত এক গুগলিতে কার্টিস ক্যাম্ফারকে (১৬ বলে ৯) বোল্ড করা লেগ স্পিনার আরেকটি গুগলিতে ফেরান স্টার্লিংকে (২৭ বলে ৩৮)।
এরপর আর কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। অনেকক্ষণ এক প্রান্তে থাকা জর্জ ডকরেল শেষের আগের ওভারে আউট হন ২৩ বলে ১৯ রান করে। শেষ পাঁচ উইকেটের প্রতিটিতে ক্যাচ নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান তানজিদ।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ তানজিদের সঙ্গে ওপেন করতে পাঠায় সাইফ হাসানকে। সিরিজের আগের দুই ম্যাচ রান না পাওয়া ব্যাটসম্যান এবারও আউট হয়ে যান ১৪ বলে ১৯ রান করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের টানা ছয় ইনিংসে ২৫ রানও ছুঁতে পারলেন না তিনি।
তিনে নেমে বাজে এক ডেলিভারিতে উইকেট বিলিয়ে ফেরেন অধিনায়ক লিটনও। তবে দলকে কোনো চাপে পড়তে হয়নি। আইরিশদের আলগা বোলিং কাজে লাগিয়ে অনায়াসেই দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তানজিদ ও পারভেজ হোসেন ইমন।
জন্মদিনের পরদিন ফিফটি করে কেক কাটার মতো করে উদযাপন করেন তানজিদ। ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৩ ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত রয়ে যান পারভেজও।
এই সিরিজ দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সফলতম বছর শেষ হলো বাংলাদেশের। ৩০ ম্যাচ খেলে এ বছর ১৫টি ম্যাচ জিতেছে তারা। এই সংস্করণে লিটনদের পরের ম্যাচ আগামী ফেব্রæয়ারিতে বিশ্বকাপে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১১৭ (স্টার্লিং ৩৮, টিম টেক্টর ১৭, হ্যারি টেক্টর ৫, টাকার ১, ক্যাম্ফার ৯, ডকরেল ১৯, ডেল্যানি ১০, অ্যাডায়ার ৮, হামফ্রিজ ১, ইয়াং ২*, হোয়াইট ৫; শেখ মেহেদি ৪-০-২৪-১, শরিফুল ৩-০-২১-২, সাইফ উদ্দিন ৩.৫-০-৩১-১, মুস্তাফিজ ৩-০-১১-৩, রিশাদ ৪-০-২১-৩, সাইফ হাসান ২-০-৮-০)।
বাংলাদেশ: ১৩.৪ ওভারে ১১৯/২ (তানজিদ ৫৫*, সাইফ ১৯, লিটন ৭, পারভেজ ৩৩*; হামফ্রিজ ২-০-১৫-০, অ্যাডায়ার ১-০-১১-০, ইয়াং ২.৪-০-৩০-১, ডেল্যানি ২-০-২৫-০, টেক্টর ৩-০-১৭-১, হোয়াইট ৩-০-২১-১)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
ম্যান অব দা সিরিজ: শেখ মেহেদি হাসান।