শিশু কিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি দূর করা জরুরি

0
শিশু কিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি দূর করা জরুরি

মোঃ আসিফ ইকবাল

আজকাল আমরা সকলেই কমবেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি। আর প্রযুক্তি নির্ভরশীলতা ছাড়া যেন আমাদের আর অন্য কোন উপায় নেই।আর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তি এখন আমাদের জীবন বাস্তবতায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে।আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদান, রন্ধন, অফিস আদালত, খেলাধুলাসহ সব জায়গায় প্রযুক্তির ছোয়া অষ্টপিষ্টের মত লেগে আছে।প্রযুক্তি ছাড়া যেন আমাদের একমিনিট চলেনা।কিন্তু আমাদের আবেগ অনুভুতির সুপ্ত বিকাশ কিংবা আমাদের পারিবারিক বন্ধন কিংবা শৈশব কৈশোরর নির্মল আনন্দের স্বাদ নিতে আমাদের পাহাড়,নদী,সাগর আর গ্রাম বাংলার সবুজ প্রকৃতির স্বাদ নিতে হয়। যে স্বাদ বা আনন্দ কখনো প্রযুক্তি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। শিশু কিশোরদের স্বাভাবিকভাবে গড়ে তুলতে চাই অনাবিল আনন্দ, সুস্থ, সুন্দর ও নির্মল পরিবেশ।আর তাই শিশুদের কোনমতেই অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তিতে বন্দী করা যাবেনা। তাদের বরং মোবাইল প্রযুক্তি থেকে যতটুকু দুরে রাখা সম্ভব হয় ততটুকু দুরে রাখায় ভালো। তবে প্রয়োজন অনুসারে
দিনের কিছুটা সময় দেয়া যেতে পারে তা অবশ্যই খুব সময়ের জন্য।কিন্তু শিশুদের সুস্থ,সুন্দরভাবে গড়ে উঠার জন্য আমাদেরকে বিশেষ করে বাবা মায়ের সান্নিধ্য, স্নেহ, খেলাধুলা এবং ভ্রমণের মত অনেক বিষয়ে সন্তানদের বন্ধুর মত করে সময় দিতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের তার পৈত্রিক কিংবা দাদার জন্মভুমি গ্রামীণ পরিবেশ এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন যাপন,প্রকৃতি,জীবন বাস্তবতা,ভাষা সংস্কৃতিসহ সকল বিষয়ের প্রতি মেলামেশার সুযোগ করে দিতে হবে। শিশুদের আসক্তি দূরীকরণে তাদেরকে বন্ধের দিনে প্রকৃতি, নদী, পাহাড়, সাগর, ঝর্ণা,চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্যের কাছে নিয়ে সময় দিতে হবে।খেলার মাঠের সাথেও পরিচয় করাতে হবে। শিশুদেরকে আমাদের দেশের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি,দেশের ইতিহাসের সাথে পরিচয় করাতে হবে।বিশেষ করে শিশু বয়স থেকেই শিশুদের নীতি নৈতিকতা,দেশপ্রেম ও গুণীজনদের সম্মান দেখানোর মত নানারকম বিষয়ে ছোট ছোট গল্পের মত করে তাদের মনে স্থান করে নিতে হবে। সময়ে সুযোগে শিশু কিশোরদের সুযোগ পেলে দেশের বাইরে ভ্রমণেও নিয়ে যেতে হবে।বিশেষ করে শিশু কিশোরদের সাথে সব সময় বন্ধুর মত করে গড়ে তুলতে হবে।তাদের মনে যাতে কোন খারাপ বা কোনরকম কালো ছায়ার দাগ আসতে না পারে। তাদের মনে সবসময় আনন্দের হিল্লোল জোগাতে হবে। শিশু কিশোর সন্তানদের মোবাইল দুরীকরণে তাদের অতিরিক্ত পড়ালেখার চাপ থেকেও বের করা জরুরী। বিশেষ করে তাদেরকে কিছুটা সময় খেলাধুলা,কিছুটা সময় সংস্কৃতি চর্চা,কিছুটা টিভি বা কার্টুন দেখার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। শিশু কিশোর সন্তানদের সামনে পিতা মাতাকে হয়ে উঠতে হবে অনন্য সাধারণ মানুষ। পিতা মাতার মধ্যে বন্ধুত্ব,ভালো ব্যবহার,পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধগুলো যেন প্রত্যেক শিশু কিশোর সন্তান খুব কাছে থেকে দেখতে পায়।কেননা পিতা মাতার অপার ও বিশ্বস্ত বন্ধনগুলো শিশু কিশোর সন্তানদের যেন মমতা এবং স্নেহে ঘেরা হয়ে থাকে। শিশু কিশোরদের মানসিক উন্নতি এবং প্রতিভা বিকশিত করার জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।যাতে করে তারা নিজেদেরকে স্বপ্নের মত গড়ে তোলার প্রেরণা পায়। শিশুদের সাথে পরিবারের সকলের কমবেশি বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠার মাধ্যমেই তাদের মানসিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। সহজ সরল সুন্দর সৃজনশীল মনের অধিকারী হবে।মনে রাখতে হবে আজকের সুস্থ, সুন্দর মন ও পরিবেশে গড়া উঠা সুশিক্ষিত শিশুই আগামীদিনের দেশগড়ার কারিগর।তাই শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশে গড়ে তুলতে চাই যথোপযুক্ত ব্যবস্থা। মোবাইল আসক্তি যাতে শিশু কিশোরদের ঘিরে ধরতে না পারে সেজন্য শিশুর মানসিক ও শারীরিক যত্নের দিকে বেশি মনোযোগী হতে পিতা মাতা তথা পরিবারকে।শিশুদেরকে মোবাইল আসক্তি কমাতে না পারলে ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার সাথো সাথে তারা অধিকতর যান্ত্রিক হয়ে উঠবে।প্রকৃতির সাথে,বাস্তবিক এবং আবেগময় অনেক কিছুর সাথে শিশুদের আর তেমন পরিচয় হয়ে উঠার সুযোগ হবেনা।
শিশুদেরকে প্রথমে তার পিতা মাতার সাথে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে শিশুরা মনের মত করে তাদের ভাবনা ও স্বপ্নগুলো সহজে বাবা মায়ের সাথে শেয়ার করতে পারে কেননা প্রতিটি মানুষের অন্তরে শিশুসুলভ মন, আচরণ ও কল্পনা বিচরণ করে।মানুষ চাইলে সেই শিশু সুলভ মন দিয়ে সকল বয়সের মানুষের সাথে সহজেই বন্ধুত্ব তৈরি করে নিতে পারে।শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত ও সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যতটুকু সম্ভব শিশুদেরকে প্রকৃতি,মাটি ও মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে তোলা জরুরী।শিশুরা যাতে কোনমতে মোবাইল গেমস,মোবাইল কার্টুনসহ বিভিন্ন গেইমে মোবাইলে অতিরিক্ত আসক্তিতে জড়িয়ে না পরে সেদিকে পিতা মাতাকে সর্বাধিক নজরে রাখা জরুরী। তাদেরকে সেজন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কাজে তাদের সময়গুলোকে সমন্বয় করে রাখতে হবে।তাদেরকে এভাবে বিভিন্নভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। যাতে শিশুরা মোবাইল থেকে দুরে থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

লেখক : কবি,সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক