মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ইয়াঙ্গুনের একটি এলাকায় রাতভর শতাধিক তরুণ বিক্ষোভকারীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, পরে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পেরেছেন। মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আটকা পড়া এসব তরুণকে ছেড়ে দিতে জাতিসংঘ ও প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলো আহবান জানিয়েছিল। রয়টার্স জানায়, ইয়াঙ্গুনের সানচুং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ফাঁদে আটকা পড়া এসব তরুণের সমর্থনে রাতেই কারফিউ উপেক্ষা করে কয়েক হাজার লোক শহরটির রাস্তায় নেমে আসে। এই তরুণরা ১ ফেব্রæয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এই সানচুং এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিলেন। বিবিসি জানায়, সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী চার রাস্তার এলাকা সানচুং ঘিরে ফেললে ভেতরে প্রায় ২০০ জন তরুণ প্রতিবাদকারী আটকা পড়েন।
পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, বাইরে থেকে এসে কেউ এলাকার বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রত্যেক বাড়িতে তল্লাশি চালাবে তারা এবং তাদের লুকিয়ে রাখার কারণে যারা ধরা পড়বে তাদেরও শাস্তি হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের তথ্য অনুযায়ী, যারা আটকা পড়েছিলেন তাদের অনেকেই নারী এবং তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। রাতে ওই এলাকা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটকা পড়াদের ‘নিরাপদে মুক্তি’ দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অনুরোধ করে জাতিসংঘ, তাদের ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহবান জানান গুতেরেস। মঙ্গলবার ভোরে একজন বিক্ষোভকারী বিবিসিকে জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ভোরের দিকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর সকাল সাড়ে ৬টার (স্থানীয় সময়) দিকে ওই এলাকা থেকে বের হতে পেরেছেন তিনি।
তিনি জানান, রাতে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিরা সকাল পর্যন্ত লুকিয়ে থেকে পরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পেরেছে। আরেক বিক্ষোভকারী মঙ্গলবার সকালে এক টুইটে বলেছেন, “সানচুং এলাকার একটি স্থানে সারারাত থাকার পর নিরাপদে বাড়িতে ফিরেছি।”



