ওসি প্রদীপ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

0
ওসি প্রদীপ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ করলেন আদালত।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল।
গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
এর আগে প্রদীপকে কক্সবাজার থেকে এনে চট্টগ্রাম কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকে গতকাল চট্টগ্রাম আদালতে আনা হয়।
গত ২৬ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান, দুই আসামির বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অন্যকে হস্তান্তর ও ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকা অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে আদালতে। শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণের আদেশ দেন আদালত। ওসি প্রদীপের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়েছে তার আইনজীবীদের তরফে। আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ২৯ জুন চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত সিনহা হত্যা মামলার আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদি হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ওসি প্রদীপের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে প্রদীপকে আদালতে হাজির করা নিয়ে সকাল থেকে পুরো আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালত চত্বরে বাড়তি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করার জন্য আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে বিশেষ নিরাপত্তায় তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।