৭ ধরনের মাথাব্যথার অর্থ জেনে নিন

28

মাথাব্যথা মোটেই উপভোগ্য কিছু নয়। কখনো কখনো এমনও মনে হতে পারে যে, কেউ যেন মাথার ভেতর হাতুড়িপেটা করছে! সবারই কম-বেশি এই অভিজ্ঞতা আছে। অনিদ্রা কিংবা স্ট্রেসের কারণে দেখা দিতে পারে এই সমস্যা। মাঝেমাঝে মাথাব্যথা হতেই পারে, তবে আপনি যদি ঘনঘন এর শিকার হন তবে তা শরীরের ভেতরগত কোনো সমস্যার কারণেও হতে পারে। জেনে নিন কয়েক ধরনের মাথাব্যথা সম্পর্কে এবং এগুলো আপনার শারীরিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ঠিক কী নির্দেশ করে-
দুশ্চিন্তার কারণে মাথাব্যথা : কপালের পেশীগুলোর সংকোচনজনিত কারণে এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরণের মাথাব্যথা হয়। এর কারণে কপাল, ঘাড়, মাথার ত্বক এবং কাঁধের পেশীগুলো নিস্তেজ এবং ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই মাথাব্যথা বেশিরভাগ সময় স্ট্রেস, শব্দ, ধোঁয়া বা দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্যাজেটের উজ্জ্বল নীল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে হতে পারে। অনেক সময় ডিহাইড্রেশনও এ জাতীয় মাথাব্যথা তৈরি করে।
মাইগ্রেন : মাইগ্রেনের কারণে তীব্র ব্যথা হয়, এটি কেবল মাথার একপাশে অনুভূত হয়। এই জাতীয় মাথাব্যথা কয়েক দিন ধরে থাকতে হতে পারে। মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তি আলো, শব্দ এবং গন্ধের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর কারণে বমি কিংবা বমি বমিভাবও হতে পারে। মাইগ্রেন বংশগত কারণে হতে পারে বা স্নায়বিক কিছু কারণেও হতে পারে।
ক্লাস্টার মাথাব্যথা : এটি একটি গুরুতর এবং পুনরাবৃত্ত মাথাব্যথা যা মাঝেমাঝেই মাথার একপাশে বিশেষত চোখের পিছনে অনুভূত হয়। এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র জ্বলন, ব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং আলোর প্রতি চরম সংবেদনশীলতা অনুভব করে। ক্লাস্টার মাথাব্যথা হঠাৎ দেখা দেয় এবং ১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এগুলো সাধারণত প্রতিদিন একই সময়ে ঘটে এবং কোনো ব্যক্তি দিনে প্রায় আটবার ক্লাস্টার মাথাব্যাথায় ভুগতে পারেন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং ভারী ধূমপান এই জাতীয় মাথাব্যথাকে বাড়িয়ে তোলে।
সাইনোসাইটিসের মাথাব্যথা : সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের প্রদাহ হতে পারে। সেখান থেকে দেখা দিতে পারে এই মাথাব্যথা। চোখ, গাল এবং কপালের চারপাশে অবিরাম ব্যথা অনভূত হতে পারে যা চলাফেরা করলে আরও বেড়ে যায়। সাইনোসাইটিসের মাথাব্যথার সাথে মোকাবিলা করার সময় ঘন সবুজ বা হলুদ সর্দি ঝরতে পারে।
হরমোনাল মাথাব্যথা : ঋতুগ্রাব, জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি এবং গর্ভাবস্থার কারণে হরমোনের ওঠানামা হরমোনজনিত কারণে এই মাথাব্যথা হতে পারে। পিরিয়ড এবং ডিম্বস্ফোটনের ঠিক আগে এই জাতীয় মাথাব্যাথা অনুভব করতে পারেন। প্রায় ষাট শতাংশ নারী এই ধরণের মাথাব্যথা অনুভব করেন।
ক্যাফেইনের কারণে মাথাব্যথা : নাম থেকেই বোঝা যায়, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে এই জাতীয় মাথাব্যথা শুরু হয়। ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহকে প্রভাবিত করে এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন মাথাব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। যারা ঘন ঘন মাইগ্রেনের শিকার হন, তাদের মধ্যে ক্যাফেইনের কারণে মাথাব্যথা বেশি দেখা যায়। পরিমিত পরিমান ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত। দিনে ২৫০ মিলি কফি পান করলেই তা যথেষ্ট।
হাইপারটেনশনের কারণে মাথাব্যথা : উচ্চ রক্তচাপের কারণে মাথাব্যাথা দেখা দিতে পারে। যখন আপনার রক্তচাপ খুব বেশি হয়ে যায় তখন এটি বেড়ে যায়। এটি আসলে একটি উদ্বেগজনক লক্ষণ। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথার দুপাশে কাঁপানো ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এটি চোখের সমস্যা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের কারণেও হতে পারে।