৭ দিন পর মৃত্যুর কাছে হেরে গেল আয়াত

13

হাটহাজারী প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্না দেখে হাটহাজারী ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহত ৭ যাত্রীর মধ্যে আয়াত হোসেন (১৭) মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১২ জন।
৭ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী আয়াত।এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের আইসিইউ’র চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রণয় কুমার দত্ত জানান, গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরো-সার্জারি বিভাগ থেকে আহত আয়াতকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তার মাথায় আঘাত ছিল। এছাড়া মাল্টিপল ট্রমাসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল তার। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আয়াত হাটহাজারীর চিকনদন্ডী খন্দকিয়া গ্রামের যুগিরহাট এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কবির লাইনম্যান বাড়ির সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. আবদুর শুক্কুরের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে আয়াত মেজ। চলতি বছর শিকারপুর ইউনিয়নের কেএস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে তার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
চিকনদন্ডী ইউপির প্যানেল চেয়রম্যান ও ইউপি মেম্বার তোফায়েল আহাম্মদ জানান, আয়াতের মৃত্যুর খবরে আবারও খন্দকিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মরদেহ বাড়ি পৌঁছলে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
এর আগে সন্ধ্যার দিকে চমেক হাসপাতাল থেকে বিনা খরচে আয়াতের মরদেহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমানে খুদ্দামুল মুসলিমিন বাংলাদেশ’র কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর আয়াতকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে এলাকার শত শত মানুষ ভিড় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এসএম মাসুদুজ্জামান সোহেল বলেন, আয়াতের শোকাহত পরিবারকে সান্ত¦না দেওয়ার ভাষা আমাদের জানা নেই।
এদিকে গতকাল রাত ১০টায় ছমদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়াতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহ¯্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেন। এ সময় অনেককে কাঁদতে দেখা গেছে। জানাজা শেষে স্থানীয় করবস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্না দেখে ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানগর প্রভাতি ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। আহত হন ৭ জন। তাদের মধ্যে আয়াত গতকাল মারা গেছেন। এর আগে আহত ইমন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। অন্যরা এখনও চিকিৎসাধীন। তারা হলেন কেএস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. সৈকত ও মো. তাসফির; কেসি শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. মাহিম ও মো. হৃদয় এবং মাইক্রোবাস সহকারী তৌহিদ ইবনে শাওন বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাসফির আইসিইউতে আছেন বলে জানা গেছে।