৬৪ ইউনিয়নে কাল ভোট ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি

38

রাহুল দাশ নয়ন

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার দশটি উপজেলায় তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে কাল। উপজেলাগুলোর মধ্যে ৬৪টি ইউনিয়নের ৫৯১টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এরমধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের ভোটের প্রচারণা শেষ হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা। ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠানো হবে।
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে আজ রাত ১২টা হতে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ, লঞ্চ, স্পিডবোট এবং ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া জরুরি সেবাসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচল করতে পারবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গতকাল রাতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান পূর্বদেশকে বলেন, পাঁচ জেলার তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত ভালো আছে। তবে পাহাড়ের পরিস্থিতি বোঝা যায় না। যে কোন সময় ঘটনা ঘটতে পারে। যে কারণে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। হাটহাজারীর ছয়টি, রাঙ্গুনিয়ার দুটি, পেকুয়ার ছয়টি, চকরিয়ার চারটি ইউনিয়নকে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। পেকুয়ায় যেহেতু গতবার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মাঠে আছে। কাল (আজ) থেকে নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃশ্যমান হবে। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যার মধ্যেই ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা পৌঁছে যাবেন। ভোটের দিন সকালে শুধুমাত্র কেন্দ্রে ব্যালট পেপার যাবে।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আগামীকাল কক্সবাজারের চকরিয়ার আট ইউনিয়নে ৭৩টি কেন্দ্রে, পেকুয়ার পাঁচ ইউনিয়নের ৪৫টি কেন্দ্রে, বান্দরবানের রুমার চার ইউনিয়নের ৩৬টি কেন্দ্রে, আলীকদমের চার ইউনিয়নের ৩৬টি কেন্দ্রে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালার তিন ইউনিয়নের ৩৩টি কেন্দ্রে, মহালছড়ির চার ইউনিয়নের ৩৬টি কেন্দ্রে, রাঙামাটির কাউখালীর চার ইউনিয়নের ৩৮টি কেন্দ্রে, রাজস্থলীর তিন ইউনিয়নের ২৭টি কেন্দ্রে, চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়ার ১২ইউনিয়নের ১০৯টি কেন্দ্রে, হাটহাজারীর ১২ইউনিয়নের ১০৯টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়াও চকরিয়ার দুটি, পেকুয়ার একটি, রাঙ্গুনিয়ার একটি ও হাটহাজারীর একটি ইউনিয়নের ৪৯টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।
তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীতে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও রাউজানের সকল ইউপিতে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের সকল প্রার্থী বিনাভোটে জয়ী হয়েছেন। যে কারণে এই উপজেলায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীর ২৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হলেও সেখানে ১০টি ইউপিতে চেয়ারম্যান বিনাভোটে জয়ী হয়েছে। যে কারণে নির্বাচন হতে যাওয়া ১৬টি ইউনিয়নে ৪৬জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ২১৪জন ও সাধারণ ওয়ার্ডে ৮৮৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হাটহাজারীতে চেয়ারম্যান পদে ৩৬জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৯২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হাটহাজারীর ১৩ ইউনিয়নের ১২২টি ভোটেকেন্দ্রের ৬৩৩টি কক্ষে দুই লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৯৩ জন ভোটার আছেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লক্ষ ৩১ হাজার ৯১৪ জন ও মহিলা এক লক্ষ ২৫ হাজার ৭৯ জন। রাঙ্গুনিয়ায় চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১২২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে ১৩ ইউনিয়নের ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের ৫৯৪ কক্ষে দুই লক্ষ ১২ হাজার ৪৩৭ জন ভোটার আছেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লক্ষ ১২ হাজার ২৭জন ও নারী ভোটার এক লক্ষ ৪১০ জন। হাটহাজারীর চিকনদন্ডি ও রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউপিতে ইভিএমে ভোট হবে।
চট্টগ্রামের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, তৃতীয় ধাপে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীর ৪০টি ইউপিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাউজানে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য পদের সকল প্রার্থী বিনাভোটে জয়ী হওয়ায় সেখানে নির্বাচন হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এই তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৩৫ জন বিনাভোটে জয়ী হয়েছে। আগামী রবিবার হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়ার ১৬টি ইউনিয়নে সকল পদে নির্বাচন হবে। বাকি দশটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই দুই উপজেলার সংরক্ষিত আট ও সাধারণ সদস্য পদের ৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী বিনাভোটে জয়ী হওয়ায় ভোট হচ্ছে না।

৩২জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের বিচার বিভাগীয় ৩২ জন কর্মকর্তাকে পাঁচ জেলার ৭৯টি ইউনিয়নে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রাউজানে ১৪ ইউপিতে নির্বাচন না হলেও সেখানে পাঁচজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও হাটহাজারীতে পাঁচজন ও রাঙ্গুনিয়ায় পাঁচজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের বিচার বিভাগীয় এসব কর্মকর্তা ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণে আছেন। আজ ও ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরের দুইদিন মোট পাঁচদিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করবেন তারা।