৬০ বছরে কবি ও কথাশিল্পী মহীবুল আজিজ

17

নিজামুল ইসলাম সরফী

ড. মহীবুল আজিজ, কবি, কথাশিল্পী, অধ্যাপক। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক জোতির্ময় ব্যক্তিত্ব। কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্যের একজন নিবিষ্টচিত্ত পাঠক ও গবেষক তিনি।
১৯ এপ্রিল ৬০তম জন্মবার্ষিকীতে মহীবুল আজিজ স্যারকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, সাবেক সভাপতি ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন মহীবুল আজিজ তার জীবনের অভাবনীয় নীরবতায় জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখেন সৃজনের সম্ভারে। করোনাকালে বিগত জন্মদিনেতিনি সম্পন্ন করেছিলেন অষ্টাদশ কাব্যগ্রন্থের পান্ডুলিপি। শিরোনাম “লকডাউন ও অন্যান্য কবিতা।”
তাঁর সেই কাব্যগ্রন্থের “’রোমের ক্যাথিড্রালে একাকি টেনর -কবিতার কিছু অংশ এরকম, যা মূলত একটি সনেট:
হে টেনর, কার জন্যে গান গাও তুমি,
পেট্রিসিয়ান প্লেবিয়ান সকলেই মরে।
ভূমিকম্প ছাড়াই কাঁপে পদতলে ভূমি,
তবু তুমি ছড়াও কণ্ঠ বিশ্বচরাচরে।
লাশ-কাটা ঘরে ভিঞ্চি বেড়াতেন খুঁজে,
মানুষেরা সিয়েস্তায় থাকতো চোখ বুঁজে।
সেই রোম সেই দেশ সবটাই মর্গ আজ,
চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত মৃত্যু কারুকাজ।

কলিসিয়াম খাঁ-খাঁ করে মহাশূন্যতায়,
মৃত দর্শকেরা ভিড় জমায় এরেনায়।
যখন সবটাই এক স্তব্ধ মরুভূমি,
গ্ল্যাডিয়েটর হয়ে ফের জন্ম নিলে তুমি।

হ্যাঁ, টেনর নও তুমি, যুদ্ধজয়ী বীর,
অদৃশ্য শত্রুকে ছোঁড়ো মৃত্যুঞ্জয়ী তীর।
যেভাবে ছুঁড়েছে তীর গল ও রোমান,
লড়েছে প্রতাপশালী লক্ষ এট্রুসকান।
তোমার ডানদিকে সারা বিশ্ব, বামে বিধি,
মৃত্যুভয়ে মানুষের ঘুম নেই চোখে।
মৃত্যুর আলোক জ্বলে দ্যুলোকে-ভূলোকে,
মনুষ্যলোকের তুমি দৃপ্ত প্রতিনিধি।

সন্ধ্যা ধীরে নামে রোমে, আলো নিভে আসে,
অমল প্রাণের হাসি মোনালিসা হাসে।
মৃত্যুহাওয়া বয়ে যায় স্তব্ধ উপত্যকায়,
তারই মধ্যে জীবনের গান ভেসে যায়।
লকডাউন ও অন্যান্য কবিতাগ্রন্থের প্রসঙ্গে মহীবুল আজিজ বলেন, ‘এই চলমান সঙ্কুল পরিস্থিতিকে লিপিবদ্ধ করে রাখার প্রয়াস এই কাব্যগ্রন্থ। আমাদের জীবনে ও পৃথিবীর ইতিহাসে যে ঘোরতম বিরূপতা এসে হানা দিয়েছে, তার অভিঘাতেই রচিত হয়েছে কবিতাগুলো, যা সভ্যতার পরিক্রমায় একটি বিশেষ অবস্থাকে চিত্রিত করে।’ ‘জন্মদিনেও লিখছি, যেমন আমি সারা জীবনই লেখালেখির মধ্যে যাপন করতে চেয়েছি নিজের মহার্ঘ জীবন’, বলেন মহীবুল আজিজ। ‘স্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কাজী শামীম সুলতানা কিছুটা অসুস্থ, একমাত্র সন্তানের দীর্ঘকালীন চিকিৎসা, শুশ্রূষা, শিক্ষার বিষয়গুলো চলমান। কিন্তু চারিদিকে নৈশব্দ। যেন কেউ নেই পাশে কোথাও। তবু আমি যাপিত জীবনের সংগ্রাম ও সংক্ষোভে কবিতাকে নিয়ে আছি অন্তর্গত আনন্দে’, বলেন তিনি।
১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণকারী মহীবুল আজিজ রচনা করেছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ মিলিয়ে পঞ্চাশাধিক গ্রন্থ। অতিক্রম করেছেন তিন যুগের কাছাকাছি অধ্যাপনা, গবেষণার পেশাজীবন। ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের বহুদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। মিশেছেন বিশ্বজনীন সাহিত্য প্রতিভাসহ নানা ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাসের বর্ণিল মানুষের সঙ্গে।
মহীবুল আজিজ স্যারের জন্ম ১৯ এপ্রিল ১৯৬২ সালে নড়াইল, যশোর হলে ও তাঁর স্থায়ী নিবাস: চট্টগ্রাম।
মহীবুল আজিজ আশির অন্যান্য নতুন প্রজন্মের মতই মধ্যবিত্তের অস্তিত্ব সংকট, চেতনালোকের নানাবিধ ক্ষরণ, গ্রামীণ জীবনের অসুস্থ জীবনাচার ও মূল্যবোধের টানাপড়েনকে তাঁর কথাসাহিত্যে সুদক্ষ শিল্পীর কুশলি বিন্যাসে উপস্থাপন করেছেন। কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও তাঁর গল্পগ্রন্থগুলো বিষয়বৈচিত্র্যে অনন্য। জীবনের প্রতি প্রবল অনুরাগ, মানবিক সম্পর্কের জটিল অন্ধিসন্ধির জালভেদ ও মানব সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁর গল্পে তীব্র মঙ্গলাকাক্সক্ষায় উৎসারিত। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মহীবুল আজিজের গল্পগ্রন্থের অন্যতম সার্থক প্রাপ্তি। তাঁর গ্রাম উন্নয়ন কমপ্লেক্স ও নবিতুনের ভাগ্যচাঁদ (১৯৮৮), ‘দুগ্ধগঞ্জ(১৯৯৭), মৎস্যপুরাণ (২০০০), ‘আয়নাপড়’ (২০০৬), ‘বুশম্যানের খোঁজে (২০১২), ‘নীলা মা হতে চেয়েছিল (২০১৪), ‘তপনশীল ও তার বিবাহ-প্রকল্প (২০১৫) প্রভৃতি গল্পগ্রন্থ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত দুটি উপন্যাস যথাক্রমে- ‘বাড়ব’ এবং ‘যোদ্ধাজোড়’- উক্ত মন্তব্যের সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য। মহীবুল আজিজ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পরবর্তী সামরিক শাসনের বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেড়ে উঠেছেন। এসময় সাহিত্য জগতে প্রবেশের পর গ্রামীণ এবং নাগরিক জীবনের চিন্তা ও আবেগকে অন্তরে লালন করে নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি মানুষকে অবলোকন করতে চেয়েছেন বিভিন্ন গ্রন্থের গল্পসমূহে। তিনি নাগরিক ও গ্রামীণ জীবনে ব্যক্তি মানুষের অতল গহীনে ডুব দিয়ে তাঁর যন্ত্রণা, কষ্ট, ভয়, হতাশা, সংশয়, সাহসিকতাকে পরিস্ফুট করেছেন অসামান্য আলোকসম্পাতে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো একদিকে যেমন নাগরিক রুচি এবং আবেগকে লালন করে তেমনি অপরদিকে নাগরিক সভ্যতার যে নেতিবাচক অবদান- সংশয়, বিচ্ছিন্নতাবোধ, নিঃসঙ্গতা, আত্মানুসন্ধানের আত্মদহন প্রভৃতি মনোজগতের অতল গহববরের অন্ধকারের পুঞ্জিভূত উপাদান চরিত্রের মনের মধ্যে থেকে লেখক আবিষ্কার করেছেন বিশ্লেষণমুখী প্রক্রিয়ায়। পুঁজিতন্ত্রের অভিঘাতে যেখানে ব্যক্তির সূক্ষ অনুভূতিগুলো অগ্রাহ্য হয়েছে, অনিকেত সঞ্চারী করে তুলেছে তার দৈনন্দিন জীবন, সেখানে যন্ত্রণাদগ্ধ সেই ব্যক্তির মনস্তত্তে¡র বিবরণ ও বিশ্লেষণ হয়ে উঠেছে প্রধান। নাগরিক সভ্যতাও যে ধর্মীয় আবেষ্টন থেকে ব্যক্তির যন্ত্রণা ও অবচেতনের কামনাকে অগ্রাহ্য করতে চায় এবং এরই ফলে ব্যক্তি মানুষ কীভাবে প্রতিবাদী সত্তায় জাগরিত হয় তারই শিল্পরূপ অধিকাংশ গল্পের গতিচঞ্চল প্রান্ত। অন্যদিকে আবার গ্রামীণ জীবন অবলোকনে তাঁর স্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত হয়েছে। তাঁর গল্পে গ্রামীণ জীবন, রাজনীতি ও নাটকীয়তা এবং মুক্তিযুদ্ধের রূপায়ণ সম্পর্কে আমার নেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন- ‘আমার শৈশব গ্রামেই কাটে। ১৯৬৬-তে বাবার চাকরিসূত্রে চলে আসি চট্টগ্রামে। সেই থেকেই এখানেই। আমরা থাকতাম চট্টগ্রামের দোহাজারিতে। এমন যে এলাকা, রাতে হাতি যেতো আমাদের ঘর ঘেঁষে। ওখান থেকে কখনও কখনও বাবার সঙ্গে জিপে করে আরও ভেতরে যেতাম বান্দরবানে- পাহাড়, বন-জঙ্গল এসব মিলে মিশে সে এক অবর্ণনীয় শৈশব অভিজ্ঞতা। আমার গল্পে গভীর গ্রাম নেই, যে গ্রামীণতাুঁকু এসেছে তা গল্প বা চরিত্রের প্রয়োজনেই। রাজনীতি এবং নাটকীয়তার কথা যদি বলি পৃথিবীর সব সাহিত্যেই এই দুটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কতকাল আগেরকার ‘ডেকামেরন’ কিংবা চসারের কাব্যগুলি দেখুন রাজনীতি এবং নাটক দুই-ই আছে। নাটকীয়তাও আসলে এক ধরনের সামাজিক অবস্থা বা সামাজিক পরিস্থিতি। মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে আমার পুরাণ আমার ইতিহাস। আমার নয় বছর বয়সে বাংলাদেশে এ অসাধারণ ঘটনার সংঘটন। আমার বোধোদয়, চিন্তার বিস্তীর্ণতা, অনুভবের সামাজিকতা সবই আশ্চর্য এক বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয় মুক্তিযুদ্ধের ঘটনায়। পৃথিবীর এত বড় একটি ঘটনার মধ্যে কোনভাবে আমিও ছিলাম এটা ভাবতে পারাটাও বিস্ময়কর। আমার যে চারটি গল্পগ্রন্থ(বর্তমানে ৭টি) হিসেব করলে তার প্রতিটিতেই একটি করে মুক্তিযুদ্ধের গল্প রয়েছে- “হোমো স্যাপিয়েন্স’’ (গ্রাম উন্নয়ন কমপ্লেক্স ও নবিতুনের ভাগ্যচাঁদ), “তাড়িখানার বিস্ময়কর বালক ও পশ্চাতকাহিনী’’ (দুগ্ধগঞ্জ), “মৎস্যপুরাণ(মৎস্যপুরাণ), “আয়নাপড়া (আয়নাপড়া), “অনবয়ব(বুশম্যানের খোঁজে), “বোরখাঅলি সুচিত্রা(তপনশীল ও তার বিবাহ-প্রকল্প)। এটা কোন সমাপতনের ফল নয় হয়তো আমার চিন্তা প্রক্রিয়ার বিশেষ একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধের জন্যে সংরক্ষিত।’(অরুন্ধতী, সেপ্টেম্বর ২০১০) স্যারের পিএইচ ডি গবেষণাবিষয়: বাংলাদেশের উপন্যাসে গ্রামীণ নিম্নবর্গ : ১৯৪৭-১৯৭১, গবেষণা-নির্দেশক: সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন। প্রকাশিত বইয়ের তালিক: ছোটগল্প: গ্রাম উন্নয়ন কমপ্লেক্স ও নবিতুনের ভাগ্যচাঁদ ( ১৯৮৮), দুগ্ধগঞ্জ (১৯৯৭), মৎস্যপুরাণ (২০০০), আয়নাপড়া (২০০৬), বুশম্যানের খোঁজে (২০১২), নীলা মা হতে চেয়েছিল, ২০১৪, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, ২০১৫, তপন শীল ও তার বিবাহ-প্রকল্প, ২০১৭, কর্নেলকে একটা মেয়ে পৌঁছে দিতে হবে, ২০২০, কামিলা ও অন্যান্য গল্প, ২০২১। কবিতা: সান্তিয়াগো’র মাছ ১৯৯৪, রৌদ্রছায়ার প্রবাস ১৯৯৭, হরপ্পা’র চাকা ১৯৯৯, পৃথিবীর সমস্ত সকাল ২০০১, নিরানন্দপুর ২০০১, বৈশ্য বিশ্বে এক শূদ্র ২০০৩, অসুস্থতা থেকে এই-মাত্র ২০০৩, এই নাও দিলাম সনদ ২০০৪, আমার যেরকম প্রস্তুতি ২০০৪, আমরা যারা স্যানাটরিয়মে ২০০৫, পালাবার কবিতা ২০০৫, দৃশ্য ছেড়ে যাই ২০০৬, ট্যারানটেলা ২০০৯, ওগো বরফের মেয়ে ২০১৪, হৃদয় বর্ণের কবিতাগুচ্ছ ২০১৭, ভরসানামা ২০১৭, Private Moments ২০১৭, কাব্যসমগ্র ২০১০, শ্রেষ্ঠ কবিতা ২০১৮, হ্যাকার তুমি ২০১৯, প্রেমনামা ২০১৯, লকডাউন ও অন্যান্য কবিতা, ২০২০। উপন্যাস: বাড়ব, ২০১৪, যোদ্ধাজোড়, ২০১৪, বর্ণসন্তান, ২০১৭, প্রশান্ত পরিত্যাগ, ২০১৯। প্রবন্ধ ও গবেষণা: হাসান আজিজুল হক : রাঢ়বঙ্গের উত্তরাধিকার, ১৯৮৮, কথাসাহিত্য ও অন্যান্য, ১৯৯৯, বাংলাদেশের উপন্যাসে গ্রামীণ নিম্নবর্গ, ২০০২, সৃজনশীলতার সংকট ও অন্যান্য বিবেচনা, ২০০৩, সাহিত্যের পরিপ্রেক্ষিত, ২০০৪, ঔপনিবেশিক যুগের শিক্ষা-সাহিত্য, ২০০৭, সাহিত্য ইলিয়াস ও অন্যান্য নক্ষত্র, ২০০৯, অস্তিত্বের সমস্যা ও লেখালেখি, ২০১০, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও অন্যান্য প্রবন্ধ, ২০১৩, উপনিবেশবিরোধিতার সাহিত্য ও অন্যান্য প্রবন্ধ, ২০১৪, সরকারি ও মিশনারি শিক্ষা, ২০১৮, বৌদ্ধধর্ম ও বাঙালি জীবন-চেতনা, ২০২০, ইতিহাসের বাস্তব এবং লেখকের বাস্তব, ২০২০। অনুবাদ: শোশা (আইজাক বাশেভিস সিঙ্গারের উপন্যাস), ২০০২, ইতালো ক্যালভিনোর গল্প, ২০১৭, সোহরাব সেপেহ্রি ও অন্যান্য ইরানি কবির কবিতা, ২০২০। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর সহযোগী অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস লিখেছেন-‘মহীবুল আজিজের কথা সাহিত্যের বিষয় যেমন মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকালের জীবনতে মনি আছে যুদ্ধোত্তর সামাজিক সমস্যা, মন্বন্তর, সামরিক শাসন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দাঙ্গা ইত্যাদি। তিনি অনেক বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছেন তবে প্রাধান্য পেয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন। গ্রাম বা শহরের বিষয় অবলম্বন করে গল্পে যাপিত জীবনের সংকট ও সমস্যার আলেখ্যই উন্মোচিত হয়েছে। তাঁর কোনো কোনো গল্পে শ্রেণী সংগ্রাম ও প্রমূর্ত হয়েছে। মূলত মহীবুল আজিজ নাগরিক জীবনের নানাবিধ সংকটকে ব্যক্তির বহুমাত্রিক চেতনার সংস্পর্শে দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিতো শুধু গন্ডিবদ্ধ পরিবারের সংকটের চূড়ান্ত সীমায় ক্ষয়ে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না। সচেতন শিক্ষিত নাগরিক জীবন যন্ত্রণার মূলে থাকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা স্রোত। লেখক সযত্নে সেসবের সঙ্গে মনস্তাত্তি¡ক কাহিনীর অবয়ব নির্মাণ করেছেন। তবে তিনি শিথিল বিবরণ ও একঘেঁয়েমী কাহিনী সূত্র বর্জন করেছেন। বস্তুত মহীবুল আজিজের কথা সাহিত্যে রাজনৈতিক পটপরির্বন ও পাশ্চাত্য শিল্প আঙ্গিক জীবন বাস্তবতা রূপায়ণে অনিবার্য প্রভাব ফেলেছে। এজন্য বিশ্লেষণ, মননধর্মিতা, তীক্ষ্ণ, ঋজু, নির্মেদ ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে আখ্যান প্রতিমায়। তিনি এখনো গল্প-উপন্যাস লিখে চলেছেন। সাহিত্য চর্চায় তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন এভাবে- ‘আমি সর্বদাই পরিকল্পনার মধ্যেই থাকি।’ তাঁর সেই পরিকল্পনায় আছেন তুন গল্পগ্রন্থ, অপ্রকাশিত কবিতা এবং ৪০ টির মতো গান প্রকাশের সম্ভাবনা। তিনি নিজের ভেতর দীর্ঘ সময় ধরে গল্পের প্লট লালন করেন। একটি গল্প ২৮ বছর ধরে লালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস দুটি ঠিক একইভাবে তিনি লিখেছেন; দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা লালন করে। কবি-কথা সাহিত্যিক মহীবুল আজিজের পরিকল্পনাগুলো নতুন গ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে সার্থকতা অর্জন করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
৬১তম জন্মদিনে প্রিয় স্যার মহীবুল আজিজের প্রতি রইল অতল শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।