৫ খালের স্লুইস গেটের রেগুলেটর আসতে লাগবে আরো ৫ মাস

50

নগরীর ৫টি খালের মুখে বসানোর জন্য গেল জুন মাসে আসার কথা ছিল রেগুলেটর (স্লুইসগেইট)। সময় অতিবাহিত হয়েছে তিনমাস। নেদারল্যান্ডের কারখানায় এখনো এসব রেগুলেটর উৎপাদনও হয়নি। এ অবস্থায় আরো ৫ মাস পর আগামি ফেব্রুয়ারিতে রেগুলেটরগুলো সরবরাহ করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে নেদারল্যান্ড। এদিকে রেগুলেটর আসতে দেরি হলেও রেগুলেটর কার্যকর করার জন্য পাম্প হাউজ ও বিদ্যুতিক সাব স্টেশন স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে প্রকল্পের তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নগরীর পাঁচটি খালের মুখে চলতি বছরে বসার কথা ছিল রেগুলেটর। সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধানে ইতোমধ্যে রেগুলেটরের কাঠামো ঠিক করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির গেইট প্রস্তুতের জন্য নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানির সাথে চুক্তি করে সেনাবাহিনী। রেগুলেটরের গেইটগুলো জুনে দেশে আসার কথা ছিল। জুলাই মাসের প্রথমে মহেশখালের মুখের রেগুলেটরে আধুনিক গেইট লাগানোর চিন্তা করেছিল প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের মধ্যেই কলাবাগিচা, মরিয়ম বিবি, টেগপাড়া ও ফিরিঙ্গিবাজার খালের মুখে রেগুলেটরে গেইট বসানোর চিন্তা করা হয়। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পিছিয়ে যায় নেদারল্যান্ডের কোম্পানির গেইট উৎপাদন সময়। কাঁচামাল সংকট থাকায় রেগুলেটরের গেইট উৎপাদন করতে না পারা কোম্পানিটি জুনেও উৎপাদনে যেতে পারেনি। তখন তারা আগস্ট মাসে পণ্য সরবরাহের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু আগস্ট মাসেও রেগুলেটর সরবরাহ করতে পারেনি নেদারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান। এখন নতুন করে আগামি ফেব্রুয়ারি মাসে সরবরাহের কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে।
জলাবদ্ধতা মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ শাহ আলী বলেন, নেদারল্যান্ড আগামি ফেব্রুয়ারিতে রেগুলেটরগুলো সরবরাহ করার সম্ভাবনার কথা আমাদের জানিয়েছে। জুনে তারা রেগুলেটরগুলো পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তখন করোনার কারণে নেদারল্যান্ডের ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে আগামি ফেব্রুয়ারিতে গেইটগুলো সরবরাহ করবে বলে তারা জানিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো ম্যাসেজ দিলে নেদারল্যন্ড থেকে সেটার তাৎক্ষণিক উত্তর পাচ্ছি তাও না। আমরা জুমে মিটিং করি, মেইল করি। যোগাযোগ হচ্ছে তবে সেটা নেদাল্যান্ডের পক্ষ থেকে অনেক দেরিতে উত্তর আসে।
দেশে প্রথমবারের মতো বসানো হচ্ছে নেদারল্যান্ডের কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের স্লুইসগেইটগুলো। দেশের অন্যান্য জায়গায় বসানো স্লুইসগেইটের তুলনায় কম্পোজিট স্লুইসগেইট হবে দীর্ঘস্থায়ী। সহজে মরিচা ধরবে না, ফলে কয়েক যুগেও স্লুইসগেইটের তেমন কোনো সমস্যা হবে না। এসব স্লুইসগেইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে। নদীতে জোয়ারের পানি যখন বেড়ে শহরের দিকে পানি চাপ দিবে তখন স্লুইটগেইটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। আবার ভাটার সময় সাগরে পানি কমে গেলে শহরের পানি বের করতে গেইট খুলে দিতে হবে। এতে পানি সাগরে নেমে যাবে। সাগরের পানি বেড়ে যাওয়া এবং শহরের মধ্যে বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ার সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য থাকছে বড় পাম্পের ব্যবস্থা। যে পাম্পের মাধ্যমে শহরের পানি দ্রুত সেচ করে বের করে দেয়া যাবে। তাছাড়াও নৌযান চলাচলের পথ রাখা হয়েছে স্লুইটগেইটে। প্রায় ২০ ফিট প্রশস্ত নেভিগেশন লক সিস্টামের মাধ্যমে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা থাকছে মহেশখাল স্লুইসগেইটে। রেগুলেটর আসার আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৫টি রেগুলেটরের মুখের মাটি পরিস্কার করে দেয়া হয়েছে। এতো ভরাট অবস্থায় রেগুলেটরের মুখ থাকলেও এখন রেগুলেটর বসানোর উপযুক্ত করার কাজ চলমান আছে। একই সাথে পাম্প হাউজ এবং বিদ্যুৎতের সাব স্টেশন স্থাপনের কাজও চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া রেগুলেটরের কাঠামো এলাকায় বসানো হবে বøক।
কর্ণেল শাহ আলী বলেন, এখন আমরা রেগুলেটরগুলোর মুখগুলো পরিস্কার করে দিচ্ছি। গেটগুলো বসানোর উপযুক্ত করে রাখা হচ্ছে। তাছাড়া রেগুলেটরে বড় পাম্প বসানো হবে, পাম্প হাউজ লাগবে। পাম্প হাউজ চালানোর জন্য বিদ্যুৎ লাগবে। নিচে বøক বসাতে হবে। রেগুলেটর কার্যকর করার জন্য সব প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। তিনমাসের মধ্যে সাব স্টেশন রেডি করা হবে। গেট আসলে জাস্ট লাগায় দিব, পাম্প বসায় দিলেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ বছরের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে সিডিএ। পরে একই বছরের ২৮ এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। প্রকল্পের অধীনে ৩৬টি খালের মাটি অপসারণ, নতুন রাস্তা নির্মাণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণসহ অনেক কাজ রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের অর্ধেক কাজ হলেও কার্যত জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পায়নি নগরবাসী।