২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল দাবি

7

আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে ‘নিবর্তনমূলক’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম ‘নাগরিক সমাজ’।
কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে দাবি জানানো হয়। জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হওয়া নাগরিক সমাজের এই পদযাত্রা পুলিশের বাধায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আটকে যায়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জোর দাবি জানান। খবর বিডিনিউজের
তিনি বলেন, ‘আপনাকে বলছি, ২৬ মার্চের আগেই এই মানবতাবিরোধী কালো আইনটি বাতিল করুন।’
আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা না হলে ‘কঠোর আন্দোলন’ গড়ে তোলা হবে।
ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সরকারকে সময় বেধে দিয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন বিক্ষোভকারীরা। পদযাত্রা আটকে দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে সীমারেখা আছে। সেই সীমারেখা আমরা তাদেরকে অবগত করেছি। তাদেরকে বলেছি, আপনাদের প্রতিবাদ যতটুকু সম্ভব আমরা এলাও করেছি এবং এখানে এসে সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এই কথাতেই তারা এখানে থেমে তাদের বক্তব্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। তারা প্রেসক্লাব থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত এসেছেন।
প্রতিটি পয়েন্টে আমাদের পুলিশ থাকার পরও তাদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশ করে হুইল চেয়ারে বসা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে নাগরিক সমাজের পদযাত্রা শুরু হয়।
জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পাশাপাশি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, অধ্যাপক রেহেনুমা আহমেদ, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ পদযাত্রায় অংশ নেন।
সমাবেশে জানানো হয়, ড. কামাল হোসেন অসুস্থতার কারণে নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন। সেই বক্তব্যে পড়ে শোনান তার দল গণফোরামের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোশতাক আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও এই নাগরিক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা- এটা আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। যে অধিকার আইন করেও খর্ব করা যায় না। দুর্ভাগ্যবশত আজকে স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী উদযাপন করতে গিয়ে এই স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করছি। এর চেয়ে লজ্জার কিছু আর হতে পারে না। কারা হেফাজতে মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।