২১-এর খেলায় আমিই গোলরক্ষক : মমতা

4

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে সেখানকার দুই বড় দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতাদের বাকযুদ্ধ। রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তিনি বলেন, ‘২১-এ একটাই খেলা হবে। আম হবো গোলরক্ষক। হারতে আমরা শিখিনি, আমাদের হারানো যাবে না।’ দলের প্রভাবশালী নেতা ও ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে দেওয়া সিবিআই নোটিস নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। প্রসঙ্গ উল্লেখ না করেই তার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘ধমকানি চমকানি জেল দেখিয়ে আমাদের ভয় দেখাবেন না। ওসব আমরা পেরিয়ে এসেছি। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আমার দেহে যতক্ষণ প্রাণ থাকবে ততক্ষণ কোনও ধমকানির কাছে আমি নত হবো না।’
দেশপ্রিয় পার্কের অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “যারা বাংলায় এসে সুড়সুড়ি দেয়, ব্যঙ্গ করে তারা ‘বাংলা’র নামকরণটা করলো না। চার বছর ধরে ফেলে রেখেছে। রাজ্যের নাম বাংলা হবে না কেন? বাংলাদেশ আছে বলে? পাকিস্তানে পঞ্জাব আছে। তাহলে এ দেশে পঞ্জাব থাকল কী করে? বাংলাদেশ তো একটা দেশ। আর আমরা বাংলা রাজ্য বা প্রদেশের কথা বলেছি। যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ আছে।’ কেন্দ্রের সরকারকে মমতার কটাক্ষ, ‘ওদের উচ্চ মধ্য থাকতে পারে। কিন্তু বাংলার বেলায় সমস্যা।’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিরকাল দেখছি, বাংলার প্রতি বঞ্চনা করা হচ্ছে। বাংলার কেউ যদি খুব বড় হয়ে যায় তা হলে তাকে টেনে নীচে নামানোর চেষ্টা করা হয়। নেতাজি, রামকৃষ্ণ, রবীন্দ্রনাথকেও রেয়াত করেনি।’ তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আমি তো শুনছি, দিল্লির অনেক নেতা কখনও কখনও বলছে, বাংলার মেরুদন্ড কী করে ভেঙে দিতে হয় আমরা জানি। চেষ্টা করে দেখুন, আগেও তো করেছেন। আমরা তো বন্দুকের সঙ্গে লড়াই করে এসছি। ভয় পাবো কেন? আমাদের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া অত সহজ নয়। এই মাটিই আমায় শিখিয়েছে, কাউকে দেখে ভয় না পেতে। বাঘের মতো লড়াই করতে।’ বক্তব্যের শেষদিকে নিজের একটি লেখা পাঠ করেন মমতা। সেখান থেকেই ২১ সালের ভোটের প্রসঙ্গে আসেন তিনি। মমতা বলেন, ‘২১-এ চ্যালেঞ্জ হবে। ২১-এই আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি এবং ২১-এই চ্যালেঞ্জ হোক। দেখি, কার জোর কতটা। ২১-এ একটা খেলা হবে। কারা হারে, কারা জেতে দেখবো। আর তাতে যদি আমায় জেলেও পাঠিয়ে দেয়, তবে জেল থেকেই ডাক দেবো, জয় বাংলা। আমরা কারও পরোয়া করি না।’ মমতা বলেন, ‘এরপর থেকে হ্যালো বলবেন না, ফোন আসলে ধরে বলবেন, জয় বাংলা।’