১১ বছরে দেশে বাঁশ বাগানের পরিধি কমেছে ৩ লাখ হেক্টর

12

আসাদুজ্জামান রিপন

ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র বেশ জনপ্রিয়। গ্রামীণ এলাকায় বাঁশের তৈরি জিনিসের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তাছাড়া ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা আসার পরে তাদের ঘর তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে কক্সবাজার এলাকায় বনাঞ্চল ধংসের পাশাপাশি বাঁশের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এ চাহিদা মেটাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাঁশ সরবরাহ করে করা হয়। তাছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর ব্যাম্বু এন্ড র‌্যাটন (আইএনবিআর) এর যৌথ উদ্যোগে ২০০৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে বাঁশ বাগানের (ঝাড়) আয়তন ছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিএফআরআই) এক জরিপে দেশে বাঁশ বাগানের আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ হেক্টর। গত ১১ বছরে দেশে বাঁশ বাগান কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর।
গবেষকদের দাবি বর্তমানে আরো কমেছে বাঁশ বাগান। তাদের মতে, ব্যাপকহারে বনাঞ্চল নিধন, অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আবাসন তৈরি, জমি দখলসহ নানা কারণে ক্রমশই সংকটাপন্ন হয়ে আসছে বাঁশের ভবিষ্যৎ। তবে বিএফআরআইয়ের গবেষকরা দাবি করছেন, আমরা উচ্চফলনশীল বাঁশের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভূমি সংকট হলেও যাতে বাঁশের উৎপাদন বাড়ানোর যায় সেজন্য কাজ করছি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর ব্যাম্বু এন্ড র‌্যাটন (আইএনবিআর) এর যৌথ উদ্যোগে ২০০৫ সালে ‘গেøাবাল ফরেস্ট রিসোর্সেস এ্যাসেসমেন্ট এর ২০০৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বাঁশ বাগানের (ঝাড়) আয়তন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশ বাগানোর আয়তন ৭ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর এবং রোপণ করা বাঁশ বাগানের আয়তন প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর।
অন্যদিকে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএফআরআই) এর সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের জরিপে, দেশে বাঁশ বাগানের (ঝাড়) আয়তন প্রায় ৫ লাখ হেক্টর। যার মধ্যে গ্রামীণ এলাকার বাঁশবাগান ৩ লাখ হেক্টর এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশ বাগানের আয়তন প্রায় ২ লাখ হেক্টর আছে বলে হিসেব পাওয়া যায়।
বাঁশ বাগান (ঝাড়) কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বন গবেষণাগারের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৮৭-৯১ সালে পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাপক এলাকা জুড়ে মুলি বাঁশে প্রচুর ফুল ধরে। এছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে আবারো রাঙ্গামটি ও কক্সবাজার জেলায় মুলি বাঁশসহ অনান্য বাঁশ বাগানে ফুল চলে আসায় ব্যাপক পরিমাণে বাগান নষ্ট হয়েছে। যার কারণে সেই অঞ্চলে বাঁশ বাগান নতুন করে তৈরী হতে সময় লেগেছে। তাছাড়া রোহিঙ্গা আগ্রাসনের কারণে কক্সবাজারের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর পাহাড়ী বনভ‚মি এবং আশেপাশের বনভ‚মির ব্যাপক ক্ষতি হওয়া এবং এই রোহিঙ্গাদের আবাসনে বাঁশের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে বাঁশ বাগান দিনদিন কমে আসছে। ফলে বাঁশ চাষের এলাকা ও উৎপাদন কমে আসছে। ২০২৪ সালে বাঁশ বাগান (ঝাড়) আরো কমে এসেছে।
বন গবেষণাগারের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ প্রজাতির বাঁশ এখন বাংলাদেশে আছে। যার মধ্যে বনাঞ্চলের প্রজাতি ৭টি ও গ্রামীণ প্রজাতির বাঁশ আছে ৩৩টি। দেশে বর্তমানে বছরে ১০ লাখ টন বাঁশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। স¤প্রতি বিএফআরআই তিনটি উচ্চফলনশীল বাঁশের জাত উদ্ভাবন করেছে বিএফআরআই। বিলুপ্তির পথে রয়েছে ডলু বাঁশ, পেচা বাঁশ ও লাঠি জাতের বাঁশ। তবে বাঁশের জাতগুলো বিএফআরআইয়ের গবেষণাগারে সংরক্ষিত করা হয়েছে।
বিএফআরআই’র সিলভিকালচার জেনেটিক্স বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (প্রশাসন) ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সাত থেকে ৮ বছরে আগে একটি জরিপে পাঁচ লাখ হেক্টর বাঁশ বাগানের (ঝাড়) আয়তন পাওয়া যায়। সাধারণত একটি বাঁশ বাগানে ৪০ থেকে ৬০ বা ৭০ বছরে ফুল চলে আসলে সেই বাগান নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া জেনেটিক ইরোসনের কারণে বাঁশ বাগানে মড়ক লেগে নষ্ট হতে পারে। ফলে বাঁশ বাগান র্দীঘস্থায়ী হয় না।