১০ হেক্টর পাহাড়ে লাগানো হচ্ছে ২৫ হাজার চারা

6

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

সবুজ উঁচু নীচু পাহাড়ে চলছে নানা প্রজাতির চারা লাগানোর ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। সহায়ক শক্তি হিসেবে চারা লাগানোর পর স্বস্তির বৃষ্টিতে থেমে নেই বৃক্ষ শূন্য পাহাড়ে ঔষধি ও হারিয়ে যাওয়া বিরল প্রজাতির চারা রোপণের কাজ। ১০হেক্টর পাহাড়ে ও সমতলে ২৫হাজার চারা লাগানোর লক্ষ মাত্রায়-প্রতিদিন গড়ে হাজার খানেক চারা রোপণ করার মাধ্যমে সবুজ বনায়নে বদলে যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা বন বিটের প্রকৃতি। চারা লাগানোতে ফিরে পাচ্ছে বন বিভাগ যুগের পর যুগ দখলে থাকা ভূমিদস্যুদের নিকট শত শত একর সরকারের সংরক্ষিত বাগানের ভূমি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্চের কোদালা বন বিটে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার চারা লাগানো হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বন ও জীবিকা প্রকল্পে (সুফল) এর আওতায় বন বিভাগের বাস্তবায়নে স্বল্প মেয়াদী, দীর্ঘ মেয়াদী ঔষধি চারা লাগানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এতে একদিকে বন বিভাগের সৃজনকৃত বনায়ন বাড়ছে অপরদিকে দখল হয়ে যাওয়া বাগান পুনরুদ্ধার অপরদিকে দরিদ্র ও অসহায় এসব মানুষ নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে সুযোগ পাচ্ছেন বন অধিদপ্তর বাস্তবায়িত সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে। সাথে সৃজনকৃত বাগান টেকসই করার জন্য আহছানিয়া মিশন নামে এনজিও সংগঠন মাঠে কাজ করছে। সার্বিক তদারকিতে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ব ব্যাংক। ঠিকাদারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে চারা রোপণের জন্য মাটি, গোবর, বাঁশ, খুঁটি রাসায়ানিক সার, ছন সুতলিসহ নানা উপকরণ ।
জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্চে সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে রেঞ্চের কোদালা বন বিটসহ ৪টি বনবিটে চারা রোপণের কাজ প্রায় ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। এক সময়ের সবুজ বনায়ন শূন্য পাহাড় গুলো এখন নানা প্রজাতির চারা রোপণে সবুজের হাতছানিতে প্রকৃতিপ্রেমিদের মন ভরে দেবে।
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্চ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানান, রাঙ্গুনিয়া রেঞ্চের ৩৩৮ হেক্টর বন ভূমিতে কোদালা বন বিটে সুফল প্রকল্পের নানা প্রজাতির ২৫ হাজার চারা লাগানোর কাজ এগিয়ে চলেছে। বাকী কাজ দ্রæত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি জানান, নানা প্রজাতির চারার নার্সারি করা হযেছে। ঠিকাদারের নানা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি বনবিভাগ চারা রোপনের গর্ত খনন, চারা রোপন, খুঁটি লাগানো, খুঁটির সাথে চারা বাধা, জঙ্গল কাটা, আড়া বাছাই ,বাগানে নতুন করে জঙ্গল পরিস্কার এবং শ্রমিক দিয়ে সকল কর্মকান্ড দেখভাল করে আসছে বন বিভাগ।
বনবিভাগ সুত্রে জানা যায়, বনায়নে হারিয়ে যাওয়া বিরল প্রজাতির গাছের চারা ও ঔষধি চারা লাগানো হচ্ছে। তার মধ্যে ড্যাকি জাম, পেতি জাম, কড়ই, নিম, আকাশ মনি গর্জন, কাঠ বাদাম,বস বাদাম, লটকন, শিমুল,বহেরা, গামার, অজুন, কৃষ্ণচ‚ড়া, কাজু বাদাম, তুন, রাধা চুড়া, হরতকি, পলাশ, বৈলাল, তৈলসুর, বধ নারিকেল, পারুল, নাগেশ্বরি, ছিকরামি, তুলা, রেন্টি, লোহা কাঠ, পিতরাজ, সনালু, মিঝিরি, ছারিয়ান, গাছের চারা নার্সারীর মাধ্যমে চারা করে বনায়ন করা হচ্ছে।
বনায়নের কাজে কোদালা বিটে দিন মজুর মো. কাশেম ( ৫০) জানান, তার বাড়ি উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের কলাবাইজ্যাঘোনা এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুফল প্রকল্পে নার্সারি করার কাজে কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন সাড়ে ৩শ টাকা দৈনিক বেতন, ও চা নাস্তা বাবদ দেড়শ টাকাসহ সব মিলিয়ে ৫শ টাকা নিয়ে পরিবার নিয়ে বাচার পথ খুঁজে পেয়েছেন। এরকম এলাকার অনগ্রহসর মানুষ সুফল প্রকল্পে কাজ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।
কোদালা বিট কর্মকর্তা কে এম মাহমুদুল হাসান পলাশ জানান, তার বিটে ইতিমধ্যে সুফল প্রকল্পের ৭০ ভাগ চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। সুফল প্রকল্পের কারণে বদলে যাচ্ছে এলাকার সবুজ বনায়ন। উপকৃত হচ্ছে বনায়নের পাশে হত দরিদ্র মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা বিটের শত শত একর বন উদ্ধার হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বনায়নের জন্য সুফল প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কোদালা বন বিটে বদলে যাচ্ছে সবুজ বনায়ন। অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুবিধাভোগী হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, যা পরিচালিত হচ্ছে সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে। প্রকল্প এলাকায় বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। বনভূমি আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু দিন দিন দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি,আবাসন ও অন্যান্য কারণে বনের উপর চাপ বেড়েছে। কমে গেছে গাছপালা। পাশাপাশি বনের উপর বেড়েছে নির্ভরতা। হুমকীর মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী ও বনের প্রতিবেশ। তাই, ক্ষয়ে আসা বনকে পুনরজ্জীবিতকরণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কাজের সুযোগ বৃদ্ধিসহ পরিবেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।