হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য

5

মুশফিক হোসাইন

সাম্প্রতিক সময়ে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর মনে নানান প্রশ্ন ও নানা শঙ্কা ঘুরপাক করছে। একজন নাগরিক অবশ্যই প্রাপ্ত সেবার বিপরীতে সরকার এবং নগর কর্তৃপক্ষকে ট্যাক্স প্রদান করা নাগরিক দায়িত্বের আওতায় পড়ে। প্রশ্ন হল ট্যাক্সের পরিমাণ কেমন হবে? তা কী সহনীয় হবে না বেশি পরিমাণে হবে? এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে নগরবাসীর মনে। সমস্যাটা ওখানেইÑকতো নির্ধারিত হবে আপীল শুনানীতে। চট্টগ্রামের মেয়র বিভিন্নভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, নগরবাসীর উপর বাড়তি কর চাপানো হবে না’। তবে দরকাতা সুরক্ষা পরিষদ নামের একটি সংগঠন দাবি করছে, গলাকাটা হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল এবং বিদ্যমান করবিধি ১৯৮৬ বাতিল করা হোক’। এ দাবিতে তারা পাড়া-মহল্লায় সভা সমাবেশ করছে। অন্যদিকে, ২২ মহল্লা নগর কমিটি থেকে শুক্রবারের জুম্মা নামাজে নাগরিকদের আপীল করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। বাস্তবতা হল যে, করদাতার সামর্থ্যানুযায়ী কর নির্ধারণ করা উচিত। কর আপীলে গিয়ে দেখা গেছে আপীলে যে শুনানী হয় তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয় না। বলা হয়, আপনাদের বরাবরে নতুন চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হবে। এই গোপনীয়তার মাঝে অসচ্ছতার কথা উঠতে পারে! আমাদের দাবি হলো আপীল শুনানীর সাথে সাথে কত নির্ধারিত হলো তা করদাতাকে জানানো হোক। এ ছাড়াও আমাদের প্রস্তাব হল যে, কর বৃদ্ধি না করে করের আওতা বাড়ানো হোক।
পঞ্চ বার্ষিকী কর পুনঃমূল্যায়নের উপর ২০১৭ সালে আদালতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার ফলে করদাতাদের উপর করের বোঝা বেড়েছ্ েবর্তমানে কর ধার্য্য করা হয় ভাড়ার উপর ভিত্তি করে। করদাতাগণ ভাড়ার উপর আয়কর দিয়ে থাকেন। সেহেতু ভাড়া নয় নগরবাসীর দাবি বর্গফুটের উপর নির্ধারণ করা হোক হোল্ডিং ট্যাক্স। আবার অনেকে দাবি করছেন আলীপ শুনানীতে স্বজনপ্রীতিও অনিয়ম সংগঠনের সুযোগ থাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ২/১টি শুনানীতে উপস্থিত ছিলাম। এ ধরনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এছাড়া শুনানী সম্পন্ন হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে করদাতাদের বাড়ি বাড়ি নতুন ধার্য্যকৃত করের চাহিদাপত্র পাঠানো উচিত। যদি কোন করদাতার নতুন ধার্য্যকৃত কর মনপূত না হয়-তাহলে তিনি আবার আপীল করতে পারেন। বিষয়গুলো যত দ্রæত নিষ্পত্তি হবে তত্ সিটি কর্পোরেশনের লাভ। অর্থাৎ ঝামেলা কমে গিয়ে আয় বাড়বে। আর একটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া দরকার। অতীতে কর আদায়কারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর আদায় করতেন। নাগরিকদের কর প্রদানে উৎসাহ দিতেন। সাম্প্রতিক সময়ে কর আদায়কারীগণ কদাচিৎ বাড়ি বাড়ি যান। ফলে নাগরিকগণ, ব্যস্ততা, আলস্য ইত্যাদি নানা কারণে কর পরিশোধ করেন না। যার প্রেক্ষিতে হোল্ডিং ট্যাক্স অনাদায়ী থেকে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে অনাদায়ী করের অংক বিশাল আকার ধারণ করে।
কিছু মানবিক বিষয় উল্লেখ করতে চাই। তা হলো সিটি কর্পোরেশনের কর আদায় কেন্দ্রগুলো ৩য়, ৪র্থ ও পঞ্চম তলায় অবস্থিত। কর আদায়ে কর আদায়কারীর কাছে টেলিফোনে কর সংগ্রহ করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। নারী ও প্রবীণসহ নানা বয়সের করদাতাগণ ঐ সকল অপরিকল্পিত ভবন বা এক্সটেনশন বিল্ডিং-এ কর প্রদান করতে উৎসাহী হন না। অসুস্থ ব্যক্তিদের তো আরও বেশি ঝামেলা। তারা হামাগুড়ি ঐ সকল ভবনে উঠে কর দেন। প্রস্তাব হলো সিটি কর্পোরেশনের আয়ের একটি খাত হল কর। অতএব কর আদায় কেন্দ্রগুলো সুবিধাজনকস্থানে হোক।
বেপারীপাড়া মসজিদের পাশের কর আদায় কেন্দ্রে কর ও আপীল করতে গিয়ে আদায়কারী ও হেডক্লাকের অসহযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত না লিখে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো। পরিশেষে নাগরিকদের করের বোঝা চাপিয়ে দিলে বরঞ্চ বর্তমান সরকার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে। মু্িক্তযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ একজন মেয়রের কাছে নগরবাসী সহনীয় করসহ সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রত্যাশা করে। একজন মেয়র সৎ ও কর্মচঞ্চল হলে নগরবাসীর মন জয় করা কঠিন কিছু নয়। বিশ্বে এমন নজির অনেক আছে।

লেখক : কবি, নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব)