হেফাজতের বিরুদ্ধে আরও ‘অ্যাকশন’ হবে : নওফেল

9

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচির নামে হেফাজতে ইসলামের জ্বালাও-পোড়াও এবং জনসাধারণের ভোগান্তি সৃষ্টির বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে, তা চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান কার্যক্রমের শুরুতে নিজে টিকা নেন নওফেল। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণকাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কওময় মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের সহিংসতার বিষয় উল্লেখ করে সাংবাদিকরা জানতে চান, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জবাবে নওফেল বলেন, ‘অপরাধ কেউ করলে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবে। আর কেউ রাজনীতি করতে চাইলে রাজনৈতিক কার্যক্রমে তারা অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু বলবে যে রাজনীতি করব না, রাজনৈতিক কর্মী না আমি, আবার রাজনৈতিক দাবি নিয়ে মাঠে নেমে জ্বালাও-পোড়াও করব, আন্দোলন সংগ্রাম ইত্যাদির নাম করে মানুষের ভোগান্তির কারণ হব, সেটা আমরা মেনে নেব না। আপনারা ইতোমধ্যে অ্যাকশন দেখেছেন। অ্যাকশন চলমান এবং হবে। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নানা জায়গায় যাচ্ছেন। দেখেছেন ব্যবস্থা কি কি নেয়া হচ্ছে। আরও হবে’।
রাঙ্গুনিয়ায় হেফাজতের হামলায় আওয়ামী লীগের এক কর্মীর মৃত্যুর পর চট্টগ্রামে সরকার দলীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাদের কোনো বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রেখেছেন। উনার বক্তব্য রাখার পরে আমরা কে কী বলেছি সেটা গৌণ। তিনি নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনাগুলো মেনে এখন ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনারা জানেন ইতোমধ্যেই বেশ কয়েক জায়গায় এই ব্যক্তিদেরকে, যারা অরাজকতা করেছে, জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস করেছে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি এবং হত্যা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, আমরা দেখেছি। আমরা বলেছি, যারা যারা প্রত্যেকেই.. কে কত বড় নেতা, কার কী নাম সেটা আমাদের দেখার কোনো বিষয় না’।
আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল বলেন, ‘এদের একজন ব্যক্তি যে মামুনুল হক নামের, সে ইতোমধ্যে ভয়ে চট্টগ্রামে আসে নাই। এর আগে আমরা প্রতিরোধ করেছিলাম, প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই ব্যক্তি সে একটা চরিত্রহীন ব্যক্তি। সে মিনিটে একজনকে তার স্ত্রী বানায়, একজনকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বানায়। তাদের কর্মী মারা গিয়েছে। সাধারণ মাদ্রাসার এতিমখানার ছাত্ররা তাদের কারণে নিহত হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে তারা কী করে এ ধরণের অপকর্মে লিপ্ত থাকে আমরা জানতে চাই। এদের চরিত্র জাতি বুঝতে পেরেছে’। খবর বিডিনিউজের
কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কারও দ্বারা ব্যবহৃত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নওফেল বলেন, ‘আপনাদেরকে ব্যবহার করে, এই হেফাজতে ইসলামের নাম ব্যবহার করে, যারা দেশে অরাজকতা করছে, দ্বীন-ই-ইসলামের প্রতি সকলের যে ভক্তি, আমরা ধর্মভীরু মানুষ, আমাদের ধর্মপরায়ণতাকে পুঁজি করে যারা আপনাদের ব্যবহার করছে, সতর্ক হয়ে যান, আপনারা জানেন আপনারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। আপনাদেরকে শুধুমাত্র উস্কানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তার পরবর্তীতে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় আপনাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অনুরোধ জানাব আপনারা এ কাজে বিরত থাকবেন’।
শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা কওমী শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে জাতীয়ভাবে সম্মান দিয়ে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দিয়েছি। তারপরেও যদি এ ধরনের কার্যক্রম চলে তাহলে এটাকে বিবেচনা করে দেখতে হবে। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কেউ করে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই তার ডিগ্রির স্বীকৃতি, সার্বিকভাবে সামাজিক স্বীকৃতি, রাজনৈতিক স্বীকৃতি সবকিছুই বিবেচনা করে দেখতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে তারা কোন পর্যায়ে আছে সেটা আমরা বিবেচনা করব এবং তাদেরকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করব’।
সরকারি নির্দেশনা না মেনে বিভিন্ন মাদ্রাসায় পরীক্ষা চলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি, মন্ত্রী পরিষদের যে সিদ্ধান্ত তা না মেনে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে না খোলা থাকে। বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসাগুলোতে আবাসিক-অনাসাবিক বন্ধ রাখার নির্দেশনা আছে। এতিমখানাগুলো খোলা রাখা যেতে পারে। যেহেতু তাদের যাওয়ার জায়গা নেই’।