হুইপ সামশুর পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি, উত্তপ্ত নগরী

42

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে হুইপ সামশুল হকের বিপক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদ এবং তার পক্ষে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের একই সময়ে ডাকা পাল্টাপাল্টি সমাবেশ পুলিশের বাঁধায় হতে পারেনি।
গতকাল বুধবার বিকাল ৩টায় দু’পক্ষ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এ সময় পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসক্লাব চত্বরে দু’পক্ষের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদ চেরাগী মোড়ে এবং পটিয়া উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতৃবৃন্দ জামালখান মোড়ে অবস্থান নেয়।
এর আগে হুইপের পক্ষের লোকজন প্রথমে জামালখানস্থ রিমা কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হন। সেখান থেকে তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়েন। এছাড়া নগরীর ডিসি হিল, ওয়াসা মোড় ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী জামাল খান মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাকের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেজাম উদ্দিসহ পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি সামাল দিতে উল্লেখিত এলাকাগুলোতে অবস্থা নেয়। এছাড়া তারা উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। উভয়পক্ষের অবস্থানের কারণে নগরীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে চেরাগী মোড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন আহমদ বলেন, হুইপ ও তার ভাই নবাব এবং ছেলে শারুন পটিয়াতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। পটিয়ার যত বড় বড় প্রকল্প ছিল, সেখান থেকে ২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন সামশু। কেউ সেখানে মাথা তুলে কথা বলতে পারে না। এক সময়ে জাতীয় পার্টি করা সামশু এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। কথায় কথায় মুক্তিযোদ্ধাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অপমান করেন। আমি হুইপ সামশুর এমপির পদত্যাগ দাবি করছি।
বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু তৈয়ব বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তার কাছ থেকে পতাকা কেড়ে নেওয়া হবে না, ততক্ষণ মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সরকারের প্রতি আবেদন, পটিয়ার মানুষের প্রতি জুলুম চলছে, তাদেরকে রক্ষা করুন।
বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদের জমায়েতে নেতৃত্ব দেন পরিষদের মহাসচিব ও মরহুম জননেতা জহুর আহম্মদ চৌধুরীর পুত্র জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ আজিজের সন্তান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, সাবেক ছাত্রনেতা নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী রানা, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শওগত আনোয়ার খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ’র মহাসচিব উত্তম কুমার বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আলম, অর্থ সম্পাদক সওকত মাসুম, দপ্তর সম্পাদক মো. মনজু, মো. নাসির খান, উজ্জ্বল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ’র নগর সভাপতি নওশাদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম প্রমুখ।
অপরদিকে জামাল খান মোড়ে পটিয়া আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের বিক্ষোভ সমাবেশে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, বসুন্ধরা গ্রæপ এবং তার সাথে কিছু দালাল এক হয়ে হুইপ সামশুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছে। এর সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। পটিয়াবাসী এ ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না। এ সময় পটিয়া থেকে আসা নেতাকর্মীরা বসুন্ধারা গ্রæপ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমের বিরুদ্ধে নানা ¯েøাগান দেন।
পটিয়া আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান, সম্পাদক হারুনুর রশিদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এজাজুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার তিমির বরণ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজন চক্রবর্তী প্রমুখ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে উভয়পক্ষকে প্রেসক্লাবের সামনে আসতে দেয়নি পুলিশ। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশের একটি দল। সংঘাত এড়াতে প্রেস ক্লাবের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক জানান, একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় সংঘাত এড়াতে উভয়পক্ষকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি।
ওসি মো. নেজাম উদ্দিন জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা উভয়পক্ষকে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হওয়া থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন আহমদকে হুইপ পুত্র শারুন ও হুইপের ভাই নবাবের হুমকির প্রতিবাদে সমাবেশ ডেকেছিল বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান পরিষদ। অপরদিকে বসুন্ধরা গ্রæপের অপপ্রচারের প্রতিবাদে কর্মসূচির আয়োজন করে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ।