হালদা নদীতে প্রশাসনের অভিযানে ঘেরা জাল জব্দ

6

দেশের অন্যতম মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এবং বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ চট্টগ্রামের হালদা নদীতে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় (রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাউশ) মা-মাছ। ডিম ছাড়ার মৌসুম তথা প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে হালদা নদীতে মৎস্যদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মৎস্যদস্যুরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাল বসিয়ে প্রতিনিয়তই মা-মাছ শিকারে তৎপর রয়েছে। তাই হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন প্রতিদিন হালদা নদীতে অভিযান চালিয়ে জব্দ করছে জাল ও মাছ শিকারের উপকরণ এবং ধ্বংস করছে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত নিষিদ্ধ ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও নানা সরঞ্জাম। তবুও অজ্ঞাত কারণে তাদের (মৎস্যদস্যু) কোনভাবেই আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত হালদা নদীর সাত্তারঘাট থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সাড়াশি অভিযান করে ১০ কিলোমিটর ঘেরা জাল জব্দ করেছে। উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন। অভিযানে আইডিএফ ও আনসার সদস্যরা সহায়তা করেন। এ ব্যাপারে ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, এপ্রিল মাস থেকেই হালদায় ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে। মা-মাছ ডিম ছাড়তে হালদায় আনাগোনা করছে। এজন্য মৎস্যদস্যুরাও তৎপর হয়ে পড়েছে। ইফতারের আগে প্রশাসন অভিযান করবে না ভেবেই মৎস্যদস্যুরা মা-মাছ শিকারের জন্য নদীতে ঘেরা ও ভাসা জাল বসাচ্ছে। তাই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন হালদা নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ১০ হাজার মিটার ঘেরা জাল জব্দ করা হয়। যা দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটারের সমান বলে জানান ইউএনও।