হামজারবাগে কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

15

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর পাঁচলাইশের হামজারবাগ এলাকায় এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে মারিয়া (১২) নামের ওই কিশোরীর মুত্যু হয়। অভিযোগ পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তার লাশ উদ্ধার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর সৎমা নুসরাত জাহান ইভাসহ (২৭) তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার মারিয়া (১২) হাটহাজারীর নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমান উল্লাহ তালুকদার বাড়ির (নূর আহম্মদ ইঞ্জিনিয়ার স্কুল সংলগ্ন) বাসিন্দা মহিউদ্দিনের প্রথম সংসারের মেয়ে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর নুসরাত জাহান ইভা (২৭) কে বিয়ে করেন মহিউদ্দিন। দ্বিতীয় সংসারেও তার দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গত চার মাস আগে থেকে মহিউদ্দিন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে হামজারবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।
জানা গেছে, গত বুধবার রাত আটটার দিকে বাসার টয়লেটে মুমূর্ষু অবস্থায় মারিয়াকে পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে গ্রাম থেকে মারিয়ার বাবা ও চাচারা শহরে আসেন। তারা বিষয়টি পাঁচলাইশ থানাকে অবহিত করলে পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লাশ উদ্ধারের পর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ বাসায় এসে সৎমা নুসরাত জাহান ইভাসহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে মারিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।
মারিয়ার জেঠা নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ দুলাল বলেন, মৃত্যুর পর খবরটি পর্যন্ত আমাদের জানানো হয়নি। এক ফুফাতো ভাইয়ের মাধ্যমে আমরা খবর পেয়েছি। ভাতিজির শরীরের বিভিন্নস্থানে আমরা আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। কিন্তু তার সৎমা একবার বলেন, টয়লেটে তাকে জ্বিনে ধরে মেরে ফেলেছে। আরেকবার বলেন, সে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের জোর সন্দেহ সৎমাই তাকে খুন করেছেন।