হাত পাকাতে গিয়ে পিকআপ চালানো ঘাতক গ্রেপ্তার

5

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছিল বন্দর নগর চট্টগ্রাম। নগরের বায়েজিদ-আরেফিননগর সড়ক দিয়ে সকাল ৮টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন ৪ জন আরোহী। কিন্তু আচমকা পেছন থেকে সজোরে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায় অজানা একটি পিকআপ। ঘটনার সাথে সাথেই অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এর ভেতরে থাকা চালকসহ ৪ জন আহত হন। তাদের একজন ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব লাকী বেগম। তিনি মাথায় আঘান পান গুরুতর। জনমানবহীন স্থানে ঘটনা ঘটায় আছেপাশে ছিল না কোনো মানুষ। আহত অটোরিকশাচালক নিজেকে সামলে দ্রুত লাকী বেগমকে নিয়ে যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহত অপর দু’জন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। লাকী বেগমকে বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলেও আইসিইউ খালী না থাকায় অন্য কোনো হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বিকেলে খবর পেয়ে হাসপাতালে যাওয়া স্বজনদের জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। দ্রুততার সাথে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নেয়া হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মাথায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসক। খবর পেয়ে বায়েজিদ থানা পুলিম লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করে স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়না তদন্তে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন লাশ। একটি পিকআপ অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে- এতোটুকু তথ্য ছাড়া আর কোনো তথ্য ছিল না। এই ঘটনায় পরদিন সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন নিহত লাকী বেগমের মেয়ে আঁখি বেগম। একটি অজ্ঞাতনামা পিকআপ নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন বাংলা বাজার এলাকায় অটোরিকশাটিকে দ্রুত ও বেপোরোয়া গতিতে আঘাত করে পালিয়ে যায়- এতোটুকু তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তভার পান এসআই রাজিব পাল। ঘটনার ৯ দিনের মধ্যেই সেই অজ্ঞাতনামা পিকআপসহ এর চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে বায়েজিদ থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজিব পাল জানান, গত ১৯ ফেব্রæয়ারি অজ্ঞাতনামা বেপোরোয়া দ্রæতগতির একটি পিকআপ একটি সিএনজি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে ৪ জন আহত হন। তাদের একজন লাকী বেগম মারা যান। এই ঘটনায় তার মেয়ে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও অন্যান্য বিষয়গুলো তদন্ত করে আমরা গাড়িটিকে শনাক্ত করি। এরপর গাড়িটি জব্দ করে নিয়ে আসি। আমরা গাড়ির চালককেও গ্রেপ্তার করি। গাড়িটি যে চালাচ্ছিল তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মসনদও নেই। গাড়িটিও গাজীপুরের। গাড়ি চালানোয় দক্ষ হতে তারা দুইজন গাড়িটি নিয়ে বের হয়েছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট তদন্ত শেষে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করেছি।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, একজন অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে পিকআপটি দ্রুতগতিতে বেপোরোয়াভাবে চালাচ্ছিল। আমরা গাড়িটি শনাক্ত করে চালককে গ্রেপ্তার করেছি। চালকের কোনো লাইসেন্স বা আইডি কার্ড কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রও আমরা পাইনি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আমরা আসামিকে আদালতে সোপর্দ করেছি।