হাটহাজারীতে ১৫০ টেস্টে ৯৫ পজিটিভ

6

হাটহাজারী প্রতিনিধি

চলমান লকডাউনের মধ্যেও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুক্রবার ১৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৫ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ৬৪ শতাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাড়াও দুই পার্বত্য জেলা এবং তিন উপজেলায় যাতায়াতের অন্যতম ট্রানজিট এই জনপদে করোনা শনাক্তের পর থেকে অদ্যাবধি ৯৫৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত এবং ৮১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। যা চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মধ্যে শনাক্ত ও মৃত্যুর দিকে থেকে সর্বোচ্চ।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন জানান, উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। চট্টগ্রাম জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা এই উপজেলায় অনেক বেশি। যা সত্যিই আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যবিধি তথা সামাজিক দূরত্ব না মানার ও মাস্ক না পরার কারণে এমনটা হচ্ছে।
২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউন কার্যকরে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও থানার পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে দেখা গেছে। এছাড়া উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখতে দেখা গেলেও দুই পার্বত্য জেলায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। কিছু সংখ্যক দোকানপাট ছাড়া বেশিরভাগই মানছে না সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ। হাটে-বাজারে বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক না পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আরও বেশি কঠোর হচ্ছে জানিয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল আলম বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন মানার ক্ষেত্রে উদাসীন জনসাধারণকে সচেতন করছি। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণরোধে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে দুটি টিমে বিভক্ত হয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আইন অমান্যকারীদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।