হাটহাজারীতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা আক্রান্ত

13

হাটহাজারী ও রাঙামাটি প্রতিনিধি

দেশে বাড়ছে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাতে এর প্রভাব পড়েছে। হাটহাজারীতে এবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইদা আলম ও দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন প্রধান শিক্ষকসহ আরও একজন সহকারী শিক্ষকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে একই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ জনসহ মোট ৯ জন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম। করোনা শনাক্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- উপজেলা মেখল দয়াময়ি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নেছা, মেখল রুহুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা নাহার এবং উত্তর ফতেয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শুভ্রা আল আমীন।
আইসোলেশনে থাকা হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইদা আলম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নমুনা দিয়েছিলাম। ঘণ্টাখানেক পর আমার দেয়া নমুনায় করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাই আমি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমার বাসায় আইসোলেশনে আছি। তিনি আরও জানান, উপজেলা দুইটি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যথাক্রমে নাজমুন নেছা ও শামীমা নাহার এবং আরও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক শুভ্রা আল আমীনও করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত দুই-তিন দিনের ব্যবধানে এরা প্রত্যেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত শিক্ষকরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। বর্তমানে সকলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং সুস্থ আছেন।
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ১নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ পাহাড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় সহকারী শিক্ষকসহ বালুচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন এবং দক্ষিণ পাহাড়তলী অলি আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাঙামাটি :
রাঙামাটিতে দ্রুত বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, যা আশঙ্কাজনক বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত সোমবার ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ জন। ১০ শতাংশের উপরে থাকায় এ জেলাকে করোনা সংক্রমণের রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতন নয় রাঙামাটির বেশির ভাগ মানুষ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব ও অ্যান্টিজিনায় ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৩৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর হার ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
আক্রান্তদের মধ্যে রাঙামাটি সদরে ১৪ জন, কাপ্তাইয়ে ১৩ জন, নানিয়ারচরে ১ জন, জুরাছড়িতে ২ জন, রাজস্থলীতে ২ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন ও লংগদু উপজেলায় ১ জন।
১৬ জানুয়ারি ৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনকে এবং ১৫ জানুয়ারি ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ১ জন রোগী আইসোলেশনে রয়েছেন।
জেলায় এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন প্রথম ডোজ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন, দ্বিতীয় ডোজ ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৯ জন এবং বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ৬৭৭ জন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতি হবে। যা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। জেলা সদরের পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলতে হবে।
এদিকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন মাঠে রয়েছে। প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার মাস্ক না পরার অপরাধে শহরে পৃথক অভিযানে ৬ জনকে ২৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন মিঠু।