হাটহাজারীতে মাঠজুড়ে ‘সূর্যমুখী’

29

‘সূর্যমুখী’ একবর্ষী ফুলগাছ। লম্বায় ৩ মিটার ও ব্যাস ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। দেখতে সূর্যের মত হওয়ায় এবং সুর্যের দিকে মুখ করে থাকায় এর নামকরণ সূর্যমুখী হয়েছে। এর বীজ হাঁস-মুরগীর খাদ্য ও তেলের উৎস হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। সমভূমি এলাকায় শীত ও বসন্তকালে চাষ করা হয় এটি। ১৯৭৫ সাল থেকে সূর্যমুখী একটি তৈল ফসল হিসেবে বাংলাদেশে আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল জেলাতে ব্যাপক চাষ হলেও এবার হাটহাজারীতে সূর্যমুখী চাষ শুরু হয়েছে। হাটহাজারীর পশ্চিম দেওয়ানপুর এলাকায় আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সড়কের পাশে এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো করা এ বাগান দেখতে সেখানে বেড়েছে মানুষের ভিড়। এখানে আসা আমেনা বেগম বলেন, ফেসবুকে ফুলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলতে এসেছি। বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছবি তুলতে আসা আসিফ বলেন, মাঠজুড়ে এমন সূর্যমুখী ফুল কখনো দেখিনি। স্মৃতিতে ধরে রাখতে এখানে ছবি তুলতে এসেছি আমরা।
হাটহাজারী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খলিলুর রহমান ভূঁইয়া পূর্বদেশকে বলেন, বীজের জন্য খামারে প্রতি বছরই কমবেশি অল্প পরিসরে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। এবার এক একরের বেশি জমিতে চাষ করা হয়েছে। পুরো মাঠজুড়ে ফুলে ভরে যাওয়ায় দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সব শ্রেণির মানুষ ছবি তোলার জন্য ভিড় করছেন। মানুষের উপস্থিতি ভালো লাগছে।
তিনি আরো বলেন, এলাকায় সূর্যমুখীর চাষ সবে শুরু হল। আমরা চাই আরও বেশি করে চাষ হোক। তবেই চাষীদের চাহিদা মেটানো যাবে। শুধু হাটহাজারী নয় আগামী বছর পুরো চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চাষিরা বাইরে থেকে বহু ক্রেতাও পেয়ে যাবেন।
গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই তেল ক্ষতিকর কোলেস্টেরলমুক্ত। তাই দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বারি-৩ জাতের নতুন সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে ব্যাপক আবাদের মাধ্যমে একদিন দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি মেটাবে।
তিনি বলেন, এবার দ্বিতীয়বারের মতো বারি-৩ জাতের আবাদ হচ্ছে। এই জাতে প্রতিএকর আবাদে ৫ কেজি বীজ লাগে। সারাদেশে ফরিদপুর, মেহেরপুর ও পাবনায় ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের তিনটি খামারেই এখন এই বারি-৩ জাতের বীজের চাষ করা হয়েছে। এবার আমাদের এখানে বীজ পাওয়ার পর তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
হাটহাজারী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. তোফাজ্জল হোসেন রনি বলেন, এর আগে বারি-২ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু বারি-২ জাতের সমস্যা হলো গাছটা বেশি বড় এবং কাÐগুলো নরম হয়। যার কারণে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি ও সামলাতে পারে না গাছগুলো সহজে ভেঙে পড়ে। এই জাতের আবাদে কৃষকের ক্ষতি বাড়ে। তাই নতুন জাতটা আনা হয়েছে। এই জাতের গাছ শক্তপোক্ত হয় এবং ঝড়-বাতাসে নুয়ে পড়ে না। প্রতি শতকে ৪০ কেজির বেশি সূর্যমুখী বীজ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া, পানি ও মাটি বারি-৩ সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, হাটহাজারীতে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের কি ধরনে প্রণোদনা দরকার সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া সূর্যমুখী চাষের বিস্তারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।