হাটহাজারীতে এইচএসসি’র পাসের হার কমেছে

142

গতকাল প্রকাশিত এই বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় হাটহাজারীতে পাসের হার কমেছে। কমেছে জিপিএ-৫ও। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাশ দেখাতে পারেনি। জানা গেছে, উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ২১৫ জন। ফেল করেছে ২ হাজার ৩১ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩৭ জন শিক্ষার্থী। ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একজনও জিপিএ-৫ পায়নি ৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। অন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১ জন এবং সর্বোচ্চ ১৬ জন পর্যন্ত জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি জিপিএ- ৫ পেয়েছে হাটহাজারী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই কলেজ থেকে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ- ৫।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে উত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী সরকারি কলেজ। এই কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ১ হাজার ৩৬২ জন, পাস করেছে ১ হাজার ৩৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন। পাসের হার শতকরা ৭৫.৮৪ ভাগ। উপজেলার আরেক পুরনো বিদ্যাপীঠ নাজিরহাট কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৮৫৩ জন, পাস করেছে ৪৪১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। পাসের হার শতকরা ৫২.৫২ ভাগ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৩৫০ জন, পাস করেছে ৩০৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। পাসের হার শতকরা ৮৫ ভাগ।
এছাড়া উপজেলার একমাত্র কাটিরহাট মহিলা কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৪০৬ জন, পাস করেছে ২৮২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার শতকরা ৬৯.৪৬ ভাগ। কুয়াইশ বুড়িশ্চর শেখ মোহাম্মদ সিটি কর্পোরেশন ডিগ্রী কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ১ হাজার ২০ জন, পাস করেছে ৬২৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার শতকরা ৬১.২৭ ভাগ। কেসি শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৩১৭ জন, পাস করেছে ১৫১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার শতকরা ৪৭.৬৩ ভাগ। ফতেয়াবাদ সিটি কর্পোরেশন ডিগ্রী কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৭১১ জন, পাস করেছে ২৬১ জন, জিপিএ-৫ একজনও পায়নি। পাসের হার শতকরা ৩৬.৭১ ভাগ।
তাছাড়া হাটহাজারী গার্লস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৫১ জন, পাস করেছে ৩৯ জন, পাসের হার শতকরা ৭৬.৪৭ ভাগ। জোবরা পিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৫৮ জন, পাস করেছে ৩২ জন, পাসের হার শতকরা ৫৫.০৭ ভাগ। আলীপুর রহমানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ২৭ জন, পাস করেছে শুধুমাত্র ৮ জন, পাসের হার শতকরা সবচেয়ে কম ২৯.৬৩৭ ভাগ। ফজলুল কাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ২৪ জন, পাস করেছে ১২ জন, পাসের হার শতকরা ৫০.৪৭ ভাগ এবং আকবরীয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ৬৭ জন, পাস করেছে ২৬ জন, পাসের হার শতকরা ৩৯ ভাগ।
হাটহাজারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর কফিল উদ্দীন জানান, আমাদের কলেজের পাসের হার শতকরা ৭৫ দশমিক ৮৪ ভাগ। যা কলেজের বিগত ফলাফলের চাইতে অনেক বেশি। এতে আমি খুব খুশি। আমার কলেজের এ সাফল্যের জন্য আমি হাটহাজারীর সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। এটা সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতে সবার সহযোগিতা পেলে আরও ভালো ফলাফল উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।