হাজারী গলির ৫০ ফার্মেসি ভেজাল ওষুধের আড়ত

18

ওষুধের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের হাজারী গলি এলাকায় ৫০ ফার্মেসি ভেজাল ওষুধের আড়ত। এসব দোকানে লাখ লাখ টাকার নকল-ভেজাল ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ বেচাকেনা হচ্ছে। অবাধে বিক্রি হচ্ছে আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধও। করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে এসব ওষুধ বেচাকেনা করতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এখানকার অসাধু ব্যবসায়ীরা।
এদিকে হাজারী লেইন ও আশপাশের মার্কেটের অসাধু ব্যবসায়ীদের নকল-ভেজাল ওষুধ ধ্বংস করতে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে গত ১৪ এপ্রিল সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করেছে হাজারী লেইন ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে হাজারী লেইন ও আশপাশের মার্কেটের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নকল-ভেজাল, সরকারি ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করছে। এসব ওষুধ জনগণের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজারী লেইন ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যারা এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করছেন, তারা আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে তা ধ্বংস করবেন। অন্যথায় হাজারী লেইনে ঐতিহ্যের স্বার্থে প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব অনৈতিক কাজের বিরেুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এজন্য ওষুধ ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন ব্যবসায়ী নেতারা।
চট্টগ্রাম ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, নকল ও ভেজালের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় অভিযান পরিচালনা করি। মূলত এখানে দুটি সমিতি রয়েছে। তারা একমত হয়েছে সমন্বয় হয়ে কাজ করলে নকল ও ভেজাল ওষুধের ব্যবসা বন্ধ হবে। কারণ তারাই জানে কে কোথায় নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে। তাই আমাদের অনুরোধ থাকবে নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। অবশ্যই ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির এটি ভালো উদ্যোগ।
তিনি বলেন, হাজারী গলির সব ওষুধের দোকান কিন্তু নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির সাথে জড়িত না। এখানে অনেক ওষুধের দোকান আছে যেখানে কম মূল্যে ভালো ওষুধ পাওয়া যায়। তবে ২০ থেকে ৩০টি দোকান রয়েছে যেখানে এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলে। আমরা অভিযান চালাতে গেলে অধিকাংশ মালিক দোকান বন্ধ করে সরে যায়।
হাজারী লেইন ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শফিউল আজম বলেন, করোনা মহামারীর প্রায় ১ বছরের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাজারী লেইনের বিভিন্ন দোকানে সরকারি ও অনুমোদহীন ওষুধ বেচাকেনা করছে। এই বেচাকেনার পিছনে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করছে। এর সাথে বিসিডিএস এর কতিপয় অসাধু লোকজন জড়িত রয়েছে। তাদের সহযোগিতার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী হাজারী লেইনে ৫০০ পাইকারি ওষুধের দোকানের মধ্যে প্রায় ৫০টি দোকানে নকল-ভেজাল, সরকারি ওষুধ ও অনুমোদনহীন ওষুধ দেদারসে বেচাকেনা হয়।
ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা আমরা তাদেরকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তারা নিজ উদ্যোগে এসব ওষুধ ধ্বংস না করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদেরকে সাথে নিয়ে নকল-ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ নির্মূলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, এখানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়া চিটাগাং মেডিকেল ও জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধগুলো হাজারী গলির বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে।
একইভাবে হাজারী লেইনের ব্যবসায়ী ও সমিতির অর্থ সম্পাদক সুরেশ বড়ুয়া বলেন, অবৈধভাবে ওষুধ ব্যবসার সাথে জড়িতদের অপরাদমূলক কর্মকান্ড পরিহার করতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তারা নিজ উদ্যোগে নকল-ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধগুলো ধ্বংস করে যেন সৎ ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এরপরও যারা অবাধ্য হয়ে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাবে তাদেরকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করবো।
এদিকে গত ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে হাজারী লেইনের চারটি ওষুধের দোকানকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব দোকানের ব্যবসায়ী তাদের অপরাধ স্বীকার করায় নিউ ড্রাগ হাউসকে ১ লাখ টাকা, এম মেডিকোকে ৬০ হাজার টাকা, গোপাল মেডিকেল হলকে ৮০ হাজার টাকা, প্রভাতী ড্রাগ হাউসকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে। একইভাবে গতবছরের ৭ জুন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকানে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি ও অবৈধ ওষুধ মজুদসহ নানা অপরাধে ২৯টি মামলায় ১০ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।