হংকং-এর বিক্ষোভে উইঘুরদের প্রতি সংহতি

67

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে হংকং-এর বিক্ষোভকারীরা। গত রবিবার বিশাল এক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে তারা এ সংহতি প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে (মরিচের গুঁড়া-র স্প্রে) নিক্ষেপ করে পুলিশ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে বেইজিং।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্টরা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছেন, জিনজিয়াং-এর বিভিন্ন বন্দিশিবিরে অন্তত ১০ লাখ মুসলিমকে আটক করে রেখেছে চীন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই মুসলিমদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রবিবার বিকালে উইঘুরদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন হংকং-এর সহগ্রাধিক বাসিন্দা।
তরুণদের পাশাপাশি বয়স্করাও এতে যোগ দেন। অনেকে উইঘুরদের পতাকা উত্তোলন করেন। অনেকের হাতে দেখা যায় চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে এ স¤প্রদায়ের মানুষের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে নানা পোস্টার। ফ্রি উইঘুর, ফ্রি হংকং; চীনের ভুয়া স্বায়ত্তশাসনের পরিণাম গণহত্যা ইত্যাদি লেখা সংবলিত পোস্টার প্রদর্শন করেন বহু বিক্ষোভকারী। আন্দোলনকারীদের অনেকেই মুখোশের আড়ালে মুখ ঢেকে এ বিক্ষোভে অংশ নেন। মূলত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই মাস্ক পরতে হয় তাদের। চীনে উইঘুর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আর্সেনাল সুপারস্টার মেসুত ওজিল-এর আলোচিত টুইটের পর হংকং-এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। ও
ই টুইটে তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মানির এ তারকা ফুটবলার বলেন, পূর্ব তুর্কিস্তানে (জিনজিয়াং-এর আরেক নাম) পবিত্র কোরআন পোড়ানো হচ্ছে, মসজিদগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তরুণদের বন্দি করে দাসত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। মুসলিম পুরুষদের সামরিক বাহিনীর ক্যাম্পে বন্দি করে রেখে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একটি মেয়েকে বলপূর্বক একজন কমিউনিস্ট পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্যাতিত উইঘুর মুসলমানদের রক্ষায় মুসলিম বিশ্ব এগিয়ে না আসায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই তারকা ফুটবলার। চীন সরকার অবশ্য মেসুত ওজিলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওজিলের দল আর্সেনালের খেলা না দেখানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেইজিং। চীনের ফুটবল বিষয়ক জনপ্রিয় ভিডিও গেমগুলো থেকেও মুছে ফেলা হয় এই তারকা ফুটবলারের নাম। বেইজিং-এর সমালোচনা সত্তে¡ও রবিবার হংকং-এর বিক্ষোভে যেন মেসুত ওজিলের টুইটই প্রতিধ্বনিত হয়।