সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে চালকদের সতর্কতা খুবই জরুরি

9

 

সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণনাশের পরিসংখ্যান অনেক দীর্ঘ। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর যেসব সড়ক সম্পর্কিত আইন ও বিধিবিধান হয়েছিল তা যথাযথ কার্যকর হতে দেখা যায় না। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। দেশের সড়কগুলোতে অসংখ্য নাম্বার প্লেটহীন অটো সিএনজি রিক্সা চলছে। সেসব সিএনজি অটো রিক্সার ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। বেপরোয়া গতিতে সিএনজি অটো রিক্সাগুলো সড়ক দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর হোন্ডা-বাইকগুলো বিমান গতিতে চালানোর প্রবণতা হতে অনেকের প্রাণহানি ঘটছে। সর্বোপরি রাস্তার সব গাড়ির চালকই পড়িমরি কার আগে কে যাবে এমন একটা প্রতিযোগিতা হতে বেরিয়ে আসতে পারছে না। যার কারণে সড়কে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাফিক সিস্টেম লঙ্ঘন করে অনেককে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। আইন মানার চেয়ে কার আগে কে গন্তব্যে পৌঁছবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতার কারণে অকালে যেসব তরুণ, নারী, শিশু এবং সব বয়সের মানুষের প্রাণহানি ঘটছে তার হিসাব দেশে অসহনীয় পর্যায়ে চলে গিয়েছে। মালবাহী ট্রাক, বাস-মিনি বাসসহ সব ধরনের যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার সাথে জড়িত।
বিগত ১৮ জুন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩জন। কর্ণফুলী সিডিএ আবাসিক এলাকার সামনে দুইটি বাস ও একটি সিএনজি ট্যাক্সির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হলে ৩জন ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং আরো ১৪জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের অবস্থাও সংকটাপন্ন। এ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন চালকের অসতর্কতা ও স্বেচ্ছাচারি মনোভাব স্পষ্ট। বিশাল প্রশস্ত রাস্তায় বাসের সাথে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং তাতে সিএনজি ট্যাক্সির যোগদানে চালকরাই প্রধানত দায়ী। তাদের কোন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু যে সকল তাজাপ্রাণ চলে গেল এবং তাদের স্বজনদের আর্তনাদ আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করলেও কোন সুবিচার নিহতদের স্বজনরা পাবে এমন পরিস্থিতি আশা করা যায় না। তবে এভাবে চালকদের অহবেলা ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে দেশের সড়কসমূহ মৃত্যুকূপে পরিণত হোক তা এদেশের মানুষ চায় না। দেশে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা সবচেয়ে বড় মাফিয়ায় পরিণত হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোন আইন প্রণীত হলে তারা দেশের সড়ক যোগাযোগ অচল করে দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে সরকারের নিকট হতে অবৈধ সুযোগ আদায় করে নিতে দেখা যায়।
সরকার, আইন, নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতাসহ কোন কিছুর ধার ধারেনা এদেশের পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। তারা সরকারি ভাড়ার নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অবৈধ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেই চলেছে। মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ কিংবা মোবাইল কোর্টের মুখোমুখি হলেও পরক্ষণে তাদের আচরণ ‘যথাপূর্বং তথা পরং’ই থেকে যেতে দেখা যায়। সড়কসমূহে যে সকল গাড়ি চলাচল করে, সে সকল গাড়ির চালকের মধ্যে নৈতিক ও বিবেকী সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দেশ হতে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’ এ কথা গাড়িতে লিখা থাকলে হবে না, চালক ও যাত্রী সাধারণের অন্তরে তার বাস্তব লালন খুবই জরুরি।
পত্রিকার প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, নগরীর ইপিজেড থানার স্টিলমিল এলাকায় বাস চাপায় নারী ও শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। পত্রিকার খবরে জানা যায় ১৮জুন একদিনে চট্টগ্রামে ৮জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। আমরা এরকম হৃদয়বিদারক দৃশ্য আর দেখতে চাইনা। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইনের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।