সড়কে ধান মাড়াই, দুর্ঘটনার আশংকা

4

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ও মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী বিস্তীর্ণ অংশে দখলে নিয়ে চলছে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ। গত ১৫দিন ধরে সড়কে দিনে রাতে গুমাই বিল থেকে বোরো ধান সড়কে এনে বড় বড় স্তুপ করে ধান মাড়াইয়ের মেশিন দিয়ে ধান নেওয়ার কাজ চলছে। এতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যনিবাহন চলাচল করছে অত্যান্ত ঝুঁকির মাঝে। যে কান সময় সড়কে ধান মাড়াইযের জন্য বড় ধরনের আশংকা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ও মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী অংশে কৃষকরা ব্যাস্ত সময় পার করছে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বোরো চাষাবাদেও অধিকাংশ জমির ধান কাটা এখন প্রায় শেষের দিকে। এখন চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। মাড়াই শেষে খড় শুকানো; সেসব খড় আর ধান গাড়িতে করে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কৃষকদের এসব কর্মযজ্ঞ চলছে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। সড়ক সংকোচন হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। ধান মাড়াইয়ের ধুলাবালি আর খড়ের টুকরো চোখে পড়ার অভিযোগও রয়েছে পথচারীদের। জানা যায়, চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত গুমাই বিলে এই বছর বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এতে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধান মাড়াইসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হচ্ছে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুমাই বিল থেকে ধান কেটে এনে সড়কের ওপরই মাড়াইয়ের কাজ সেরে নিচ্ছেন কৃষকেরা। সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে কাটা ধানের স্তুপ। পাশেই ওইসব ধান ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে।এতে বাতাসে উড়ছে খড়ের টুকরো আর ধুলাবালি, যা গিয়ে পড়ছে পথচারী আর ছোট যানের যাত্রীদের চোখে-মুখে। এদিকে মাড়াই পরবর্তী ওইসব ধান আর খড় সড়কের ওপরেই শুকানো হচ্ছে। ফলে সড়কের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা দখল হয়ে গেছে। এতে যান চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। এদিকে কাপ্তাই সড়ক ছাড়াও মরিয়মনগর-গাবতল সড়ক, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া সড়কে ঘাটচেক-রানির হাট সড়কেও কৃষকেরা ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন। এ পরিস্থিতি উপজেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় সড়কেই বিরাজ করছে। রাঙ্গুনিয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এডমিন ফাহিম আজম জানান, গতকাল সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি খড়ের টুকরো চোখে এসে পড়ে। এতে চোখের ক্ষতি হয়। চিকিৎসকের শরণাপন্নও হতে হয়েছে। কৃষক আলী আবদুল কুদ্দুছ জানান, তার বাড়ি জমি থেকে অনেক দূরে। ধান মাড়াইয়ের মেশিনের মালিকও রাস্তা ছেড়ে মেশিন নিয়ে ওদিকে যেতে চান না। তাই নিরুপায় হয়েই সড়কে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে হচ্ছে। চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম এলাকার ধান ব্যবসায়ী মুছা জানান, কৃষকের যেখানে থাকার জায়গা নেই। সেখানে ধান নেওয়ার জন্য উঠান আশা করা যায়না। অনেকটা নিরুপায় হয়ে তারা সড়কের জায়গা দখলে নিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছে। এতে সড়কে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। অধিকাংশ কৃষকের বসতবাড়ি সংকটের কারণে এখন কোন বাড়িতেই বড় উঠান নেই। ফলে জমির পাশের এই সড়কটি ব্যবহার করা হয়। সড়কটি পাকা এবং পিচঢালা হওয়ায় নতুন করে ধানের খোলা তৈরির ঝামেলা করতে হয় না। এসব কারণে কৃষকেরা একেবারে সবকিছু এখানে সেরে তারপর বাড়ির পথ ধরেন। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই বাস মিনিবাস ওর্য়াকাস ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল কুদ্দুছ জানান, সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়ে কৃষকরা ধান মাড়াইয়ের কাজ করছে। এতে সড়কে বাস ট্রাক ছোট বড় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করছে। সড়কে ধানের স্তুপ থাকায় গাড়ির চালকরা গাড়ি চালাতে গিয়ে ধানের স্তুপের সাথে অনেক সময় ধাক্কা খেতে হচ্ছে। যাত্রীদের সময়মত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারছেনা। ব্যাস্ততম এ সড়কে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে। সড়ক থেকে এগুলো অচিরেই না সরালে বড় ধরনের প্রান হানির ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্ম পরিদর্শক রাশেল দেওয়ান বলেন, সড়ক দখলে নিয়ে এসব কার্যক্রম বেআইনি হলেও এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। নিষেধ করলেও কেউ মানে না। সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়ে প্রতিদিন কৃষকরা ধান মাড়াইয়ের কাজ অব্যাহত থাকলে সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলে মারাতœক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বড় ধরনের প্রান হানি থেকে রক্ষা পেতে হলে সড়কের ওপর ধান মাড়াই কাজ বন্ধ করতে হবে।