স্যাংশন ভিসানীতিতে নির্ভর করে থাকলে হবে?

14

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির ওপর নির্ভর না করে আন্দোলনের ওপর জোর দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তাদের কাজ অন্য কেউ করে দেবে না, যা করার নিজেকেই করতে হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষকদের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে চাকরি জাতীয়করণের দাবি ও শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি-নির্যাতনের প্রতিবাদে এ মহাসমাবেশ হয়। এতে সারা দেশ থেকে সহ¯্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নেতা অংশ নেন। খবর বিডিনিউজের।
ফখরুল বলেন, এখন আমরা যে শাসনের মধ্যে পড়েছি, এখন আমরা যে দুঃশাসনের মধ্যে পড়েছি, এখন যারা আমাদের এই বুকের ওপরে চেপে বসে- আমাদের উপরে ছড়ি ঘুরাচ্ছে, মারছে, খুন করছে, হত্যা করছে, লুণ্ঠন করছে। এটাকে সরানোর দায়িত্ব কার? এই স্যাংশনের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে? ভিসা নীতির উপর নির্ভর করে থাকলে হবে? অন্য কেউ করে দিয়ে যাবে? আমাদেরকেই করতে হবে। সেটা করতে এখন ভালো কথা শুনছে না, শান্তির কথা শুনছে না।
বিএনপি নেতা বলেন, আমরা বার বার বলছি যে- আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি.. বলছি- পদযাত্রা করছি, রোড মার্চ করছি, সমাবেশ করছি, তাই না। শুনছে? চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। শোনে না। ওই জন্য এখন কী করতে হবে?
শোনাতে হবে এবং শোনানোর জন্য যা কিছু করা দরকার, তাই করতে হবে। সেজন্য আজকে সমগ্র জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য, সকল মানুষকে এই সরকারকে সরাতে রাজপথে সোচ্চার হতে হবে। ইনশাল্লাহ আমরা বিজয়ী হব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি এখনও বলি, এখনও আহŸান জানাচ্ছি, অনেক কষ্ট দিয়েছেন মানুষকে, অনেক হত্যা করেছেন আমাদের ভাইকে, অনেক স্বামীকে, অনেক স্ত্রীকে স্বামীহারা করেছেন, অনেক মাকে পুত্রহারা করেছেন, অনেক সন্তানকে পিতাহারা করেছেন, অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন। এখনও সময় আছে, এখন আপনি দয়া করে বিদায় হোন, বিদায় হোন।
আপনারা যে অপকর্ম করেছেন, এই অপকর্মের জবাবদিহি আপনাদেরকে একসময় করতে হবে। তার আগে সসম্মানে যদি বিদায় হতে চান, তাহলে এখনই সময়ে আপনি বিদায় হন। আমরা বলেছি- পদত্যাগ করুন, এই সংসদ বিলুপ্ত করুন এবং স্পষ্ট করে বলেছি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন।
‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে আতঙ্ক’ : বিএনপি নেতা ফখরুল বলেন, র‌্যাবের ওপর স্যাংশন দিয়েছে, ওরা মানুষ খুন করত, কথায় কথায় গুলি করে মেরে দিত, গুম করে দিত.. আর ভিসা নীতি করেছে। ভিসা নীতিতে এখন সবাই আতঙ্কিত। ওদের যারা দুর্নীতি করেছে, যারা অন্যায় করেছে, যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐ করেছে, যারা বিচারক হয়ে দলীয়ভাবে বিচার করছে, যে ব্যবসায়ী চুরি করছে, দুর্নীতি করছে- সবাই এখন আতঙ্কিত হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের ছাপ আমরা দেখতে পারছি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুখে।
বিদেশি কেউ কেয়ারটেকার সরকারের কথা বলেনি জানিয়ে আগের দিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর করা সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। বলেন, এটা বলতে হয় না, ওটা বোঝা যায় যে এখানে (বাংলাদেশে) নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীন ছাড়া বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তার প্রমাণ দিয়েছ ’১৪ সালে, তার প্রমাণ দিয়েছ ’১৮ সালে আর এখনও প্রমাণ দিচ্ছে। আর বলে কি না নির্বাচন তো সুষ্ঠু করা আমাদের কর্তব্য, সুষ্ঠু করছি।
গতকাল (শুক্রবার) প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, আমাদের নির্বাচন নিয়ে এত কথা আমি বুঝতে পারি না। নির্বাচন তো আমরা করছি সুন্দর নির্বাচন, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করছি। এখন এই কথাগুলো শুনলে আমি আগেও বলেছি, ঘোড়াও হাসে। উনারা সুষ্ঠু নির্বাচন করেন- এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। যাই হোক অবৈধভাবে হোক আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো। ১৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী আছেন। উনি কি একবারও চিন্তা করেন না যে, আমার এই কথাটা শুনে মানুষ হাসবে।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে ও শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহŸায়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।