স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য ড. আবু ইউসুফ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব

16

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ড. আবু ইউসুফ স্মৃতি ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্মারক বক্তৃতা ৩ ডিসেম্বর সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুসদের ডিন প্রফেসর ড. জ্যোতি প্রকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মারক বক্তৃতায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচর্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. বেনু কুমার দে। স্বাগত বক্তব্য দেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম কিবরিয়া ভুঁইয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড. আবু ইউসুফ স্মৃতি ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তফাজ্জল হক। চবি ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এস এম বুরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় ‘চট্টগ্রামের অতীত ইতিহাস লিখনে রিপ্রেজেন্টশনের সীমাবদ্ধতা’ শীর্ষক বিষয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ, ‘বঙ্গবন্ধুর গণমুখী রাষ্ট্র ভাবনা’ শীর্ষক বিষয়ে চবির নৃ-বিভাগের প্রফেসর রাহমান নাসির উদ্দীন ও ‘বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক সম্পর্ক: বঙ্গবন্ধুর আমল’ শীর্ষক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ সেলিম লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন।
স্মারক বক্তৃতায় লিখিত প্রবন্ধে অতীত ইতিহাসের সঠিক এবং নির্মোহ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ইতিহাস লেখক ও গবেষকদের নানা সীমাবদ্ধতা, উপনিবেশবাদের লেজুড় চিন্তা ও কৌলিন্য নির্ভরতার ফলে ইতিহাসের গতি ধারায় বিকৃত মানসিকতা সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করে প্রফেসর মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও এ এলাকার শ্রমজীবি মানুষের কর্ম সাধনা ও তাদের যাপিতজীবন নিয়ে অনেক ইতিহাস লেখক অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে, কট‚ক্তি ও অসৌজন্যমূলক শব্দচয়ন করতেও দ্বিধা করেন নি। এটি মূলত লেখকদের উপনিবেশবাদী মানসিকতা বা নিজেদের উচ্চ শ্রেণির ধারণা থেকেই হতে পারে। একজন লেখক নিজের অবস্থান বিবেচনায় ইতিহাস লিখতে গেলে জাতি সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে। এ ধারা এখনও আছে, গবেষক বা লেখকদের এ অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।
প্রফেসর রহমান নাসির ও প্রফেসর সেলিম বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর গণমুখী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রনীতিতে এর যথার্থ প্রতিফলনের যে প্রয়াস বঙ্গবন্ধু নিজে এবং তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের সাথে যে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেন-এর তথ্য নির্ভর বর্ণনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন ও গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রফেসর ড. আবু ইউসুফের অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ড. আবু ইউসুফ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব, নির্লোভ, নিরহঙ্কার ও আদর্শবান শিক্ষক এবং দক্ষ প্রশাসক। কোন সময় অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, ছাত্র ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি