স্মরণকালের বৃহৎ জনসভার প্রস্তুতি কক্সবাজার আওয়ামী লীগের

19

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কক্সবাজারের জনসভায় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম হবে বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল সোমবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, ৭ ডিসেম্বর কেবল সভাস্থল শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম নয়; পুরো কক্সবাজার শহর হবে জনারণ্য।
এবারের জনসভায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের জমায়েত হতে পারে। স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে আড়াই লাখের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে। এর বাইরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাহারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা চত্ত¡র, হলিডের মোড়, শহীদ সরণী এলাকা, কলাতলীর হোটেল মোটেল জোন হয়ে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত মানুষের জমায়েত হবে। পুরো এলাকা জুড়ে দুই শতাধিক মাইক স্থাপন ও সভাস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ জানান, সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর মূল মঞ্চটি হচ্ছে নৌকা আকৃতির। এর সঙ্গে থাকছে ৪টি উপমঞ্চ। যেখানে কেন্দ্রিয় নেতা, জেলা নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে অবস্থান নেবেন। ওইদিন কক্সবাজারের ইনানীতে আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ার উদ্বোধন শেষে শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ৬ মে সর্বশেষ কক্সবাজারে এসে কক্সবাজারকে উন্নত বিশ্বের আদলে এক্সক্লুসিভ পর্যটন জোনসহ অত্যাধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণার আলোকে কক্সবাজারে চলছে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ৪০টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭ উন্নয়ন প্রকল্প। যার সুফল পাচ্ছেন কক্সবাজারসহ দেশবাসী। এরমধ্যে এবার নতুন করে কক্সবাজারবাসির পক্ষে আরও ১১টি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ৭ ডিসেম্বর বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। এবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভাটি কক্সবাজারবাসি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। এখানে ৫ লাখ লোকের সমাবেশ হবে। কেবল স্টেডিয়াম নয় পুরো কক্সবাজার শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এর জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর এবারের জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের অন্য এলাকার চেয়ে কক্সবাজারে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, রেললাইন প্রকল্প, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, মেরিন ড্রাইভ প্রশ্বস্তকরণ, সাবমেরিনের মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্প, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, সাবরাং এক্সক্লুাসিভ ট্যুরিজম জোন, মহেশখালী এলএমজি টার্মিনালসহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সকাল থেকে জনসভাস্থলে স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। তুলে ধরা হবে আদিবাসী সংস্কৃতি।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন ও হাসান জাহিদ তুষার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক ও জাফর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা শহর ছাড়াও উপজেলা ইউনিটগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। উপজেলা ইউনিট গুলোর মধ্যে কারা বেশী লোক জুড়ো করবে সে প্রতিযোগিতা চলছে।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় উখিয়া থেকে ২০ হাজার মানুষ নিয়ে উপস্থিত হবো।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি শেষ করছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রকার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।