স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল দুই আসামি

3

রাউজান প্রতিনিধি

রাউজানে অপহরণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা, পুলিশের কাজে বাঁধা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একই সাথে অপহরণ মামলায় আটক সুইংচিং মং মারমা (২৪), অংথইমং মারমাকে (২৫) গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন বলে জানান রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হারুন।
একইদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় অপহৃত কলেজছাত্র শিবলী সাদিক হৃদয়ের খন্ডিত মরদেহ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্ট শেষে দাফন করা হয়। অন্যদিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অপহরণ মামলার আসামি উমংসিং মারমার (২৬) মরদেহ রাতে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার নিজ গ্রামে সৎকার করা হয়। জানা গেছে, গত সোমবার রাতে অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাউজান থানার এসআই আজিজুল হাকিম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের কোন সংখ্যা উল্লেখ নেই। এই মামলায় আটকের কথাও স্বীকার করছে না পুলিশ। তবে মামলার পর থেকে গ্রামের নারী-পুরুষরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান অনেকে। পুলিশ জানায়, শিবলী সাদিকের (১৯) অপহরণের ১৪ দিনের মাথায় সোমবার সকালে রাঙামাটির কাউখালীর বালুটিলায় উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় সঙ্গে নেওয়া হয় অপহরণ মামলার আসামি উমংসিং মারমাকে (২৬)। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে শিবলীর সাদিকের খন্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নিয়ে দুটি পুলিশভ্যানে করে থানায় ফিরছিলেন ওসিসহ ২০-৩০ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় উত্তেজিত জনতা দুটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি উমংসিং মারমাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। পুলিশ এ সময় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
গণপিটুনিতে নিহত উমংসিং মারমা রাঙামাটির বেতবুনিয়া ইউনিয়নের রঙ্গিপাড়া গ্রামের উথোয়াইমং মারমার ছেলে। এই ঘটনায় আহতরা হলেন রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন (৪৬), এসআই শাহাদাত হোসেন (৩৫), এসআই কিশোর কুমার (৩২), এএসআই আজিজুল হাকিম (২৯), এসআই কানু লাল (৪০), এএসআই শাহিদুল ইসলাম (৩৮) ও পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানের চালক।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট রাতে রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামের মুরগির খামার থেকে অপহরণ করা হয় শিবলী সাদিককে। তিনি ওই খামারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। ঘটনার আট দিন পর অপহরণের মামলা নেয় পুলিশ। এই মামলায় উমংসিং মারমা, আছুমং মারমা (২৬) ও উক্য থোয়াইং মারমাকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গত সোমবার ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় সুইংচিং মং মারমা (২৪), অংথইমং মারমাকে। তারা পাঁচজনই শিবলী সাদিকের সঙ্গে একই খামারে চাকরি করতেন।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, আসামি ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়। এতে আসামির সংখ্যা এবং নাম রাখা হয়নি। দুটি মামলার আসামিদের সবাই অজ্ঞাতনামা। আটক দুই আসামিকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
তিনি বলেন, অপহৃত হৃদয়ের খন্ডিত মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত উমংসিং মারমার লাশও ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।