স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গবেষণা জরুরি

8

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য গবেষণা খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশ-বিদেশের নামকরা, প্রতিথযশা চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গবেষক ও অতিথিবৃন্দ। ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণা’ শীর্ষক তৃতীয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এমনটি মন্তব্য করেন তারা। দিনভর জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বৃহৎ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে ১১শ গবেষক অংশ নেন। সম্মেলনে একসাথে ১১৪টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে অংশ নিয়েছেন ভারত,নেপাল, থ্যাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিথযশা একঝাঁক চিকিৎসা বিজ্ঞানী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সায়েন্টিফিক সেশনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মেডিকেল গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও মেডিকেল বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ।
সম্মেলনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডা. মেহেরুন্নিছা খানমের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ আবদুচ ছালাম। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, ইসি কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ, ডেন্টাল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন আকবর, মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, অধ্যাপক ডা. মো. আমির হোসাইন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহেনা আকতার, অধ্যাপক ডা. আকরাম পারভেজ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. রুবি দত্ত, ডা. বিদ্যুৎ বড়–য়া, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন, চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাস, অধ্যাপক ডা. মো. আকরাম হোসাইন, অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ, ডা. আইরিন সুলতানা প্রমুখ। ক্যাম্পাসের চারটি ভেন্যুতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল খান বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে গবেষণার বিকল্প নেই। আর এ কাজটি সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছে সম্মেলনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। যে কারণে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছে বিশেষ সম্মাননা। দেশ-বিদেশের এত সংখ্যক গবেষকদের মিলনমেলা সত্যি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানকার বিপুল সংখ্যক গবেষণা এরইমধ্যে দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে।
সাংসদ আবদুচ ছালাম বলেন, ‘চট্টগ্রামের চিকিৎসা সেবায় বড় ভূমিকা রাখছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তাদের এবারের রেকর্ড ১১৪টি গবেষণাপত্র নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এসব গবেষণাপত্র আগামীতে দেশের চিকিৎসা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’
অধ্যাপক এম এ ফয়েজ বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চায়নে এ প্রতিষ্ঠানের যে অবস্থান তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মেডিকেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় দেশের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে এটি ভূমিকা রাখবে।’
সম্মেলনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষরা অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন। অতিথিবৃন্দ ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠান গবেষণার চলমান ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।