স্বাধীনতার গল্প

19

আজ ছাব্বিশে মার্চ অফিস বন্ধ। রিফাতকে নিয়ে তার মামা বিকেল বেলা হাঁটতে হাঁটতে একটা সম্মেলনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। রিফাত তার মামাকে বললেন- মামা এখানে কী হচ্ছে? মামা বললেন- এটা একটা বিশাল গল্প। তুমি শুনবে এই বিশাল গল্পটা? রিফাত মাথা ঝাঁকালেন ‘হ্যাঁ’।

তাইলে শুনো- ১৯৭১ সাল। পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের পূর্ব পাকিস্তানিদের উপর অনেক নির্যাতন করতেন। রিফাত বললেন- আচ্ছা মামা পূর্ব পাকিস্তানি কারা? উত্তরে মামা বললেন- আমরা যারা বাংলায় কথা বলি তারা বাঙালি। বাঙালিদেরকে তখন পূর্ব পাকিস্তান বলা হত। আর যারা উর্দুতে কথা বলতো তাদেরকে বলা হত পশ্চিম পাকিস্তানি। দ্বিজাতিতত্ত্বর ভিত্তিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্টদেরকে পাকিস্তান ভাগ করে। সেখানে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান নামক দুটো রাজ্য হয়। আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্টদেরকে হিন্দুস্তান তথা ভারত দেওয়া হয়। সে থেকেই পাকিস্তানের শাসক শ্রেণি পূর্ব পাকিস্তানিদেরকে শোসন, নির্যাতন করে আসছে।

প্রথমে ভাষার উপর আঘাত হানে। বায়ান্ন সালে বাংলা ভাষার জয় হয়। ৬৯ গনঅভ্যুত্থান, তারপরে সত্তরে নির্বাচন হল। শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানী শোসকরা তাকে ক্ষমতায় বসাতে অনাগ্রহী হলেন। বিভিন্নভাবে বাঙালিদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন শুরু করে। যার প্রতিবাদে ৭-ই মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুৃ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন। এবং নির্দেশ দেওয়া হয় “যার যা কিছু আছে তা নিয়ে যেন শত্রূর মোকাবিলা করা হয়”। তারপর ২৬-ই মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেয়। সেই থেকে শুরু হয় যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বাঙালিদের অনেক ক্ষতি করে পাকিস্তানি শাসকরা। ২৫ মার্চ নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালিদের গনহত্যা করে পাকিস্তানি বর্বর জাতি। নারীদেরকে ধর্ষণ করে পাপিষ্ঠ পাকবাহিনী। পুরুষদেরকে হত্যা করে পাকবাহিনী। দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ করে অকুতোভয়ে বীর বাঙালি সেনারা। এখানে যুক্ত হন বাঙালি কৃষক-শ্রমিক, দিনমজুর,খেটে খাওয়া মানুষ, ছাত্র-শিক্ষক, যুবক-বৃদ্ধ সবাই। নারীরা নিজেদের সম্মান হারায় পাকিস্তানি বর্বর শাসকদের আচরণে। নারীরাও সেদিন এদেশ রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে । অতঃপর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পাকবাহিনী হার মানে। এরপর থেকেই ২৬ মার্চে বাঙালিরা স্বাধীনতা দিবস পালন করে।

২৬ মার্চ বাঙালিদের মুক্তির দিন। এদিন নিজেদের জীবন বাজি রেখে বাঙালিরা বীরের মত যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটা হল মহান স্বাধীনতা দিবস। এ দিবসকে ঘিরেই আজকের এই আয়োজন। এই দিন যদি বীর বাঙালিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়ত তাহলে আমরা চিরকাল পশ্চিম পাকিস্তানের দাস হয়ে বেঁচে থাকতে হত। তারা আমাদের উপর চিরকাল জুলুম করত । আমরা পেতাম না আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের অধীকার। আমাদের মুক্তি। রিফাত এতক্ষণ এসব কথা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা মামা আমরা কী এখন স্বাধীন? ফরিদ খান বললেন হ্যাঁ আমরা এখন নিজেদের মত বাঁচতে পারছি। নিজেদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র আছে। নিজস্ব মানচিত্র আছে। নিজস্ব সংবিধান আছে। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি। এটাই আমাদের স্বাধীনতা। বিশ্ব আমাদেরকে চিনে স্বাধীন এবং অকুতোভয় দেশপ্রেমিক হিসেবে। যাদের কারণে আমরা বিশ্ব দরবারে এত মান পাচ্ছি তাঁরা আমাদের মুক্তিসেনা। তাঁরা মুক্তিবাহিনী। তাঁদের স্মরণেই আজকের এই আয়োজন। আমরা তাঁদেরকে চিরদিন স্মরণ রাখবো। তাঁদের মাহফিরাতে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করব নামাজ পড়ে।