স্বরূপে ফিরছে নগরী

6

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি শেষে নগরে ফিরেছে কর্মমুখী মানুষ। সরকারি অফিস-আদালত পুরোদমে চালু হওয়াতে স্বরূপে ফিরেছে চিরচেনা নগরী। সড়কে বাড়তে শুরু করেছে গাড়ির সংখ্যা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে হালকা যানজটের দেখা মিলছে। সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। শুরু হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও। সব মিলিয়ে চিরচেনা নগরী আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
ঈদের ছুটিতে চিরচেনা নগরী তার আপন রূপ হারিয়ে খোলাহলমুক্ত নগরীতে রূপ নেয়। ফাঁকা হয়ে পড়া শহরের সড়কে ছিল না যানজট। তবে এখন ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরছে নগরী। সড়কে বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ। এছাড়াও গতকাল ট্রাক, লরি, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য দেখা গেছে সড়কে। বলা যায়, সব ধরনের যানবাহনই নগরীর সড়কে চলাচল করছে। জিইসি মোড়, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট মোড়, অক্সিজেন মোড়, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর প্রবেশ মুখ, আগ্রাবাদ, একেখান মোড়, সিইপি জেড এলাকায় যানবাহনের আধিক্য দেখা গেছে। বাইরের জেলাগুলো থেকে এখনো নগরীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ।
মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ বলেন, ঈদ উদযাপনে বগুড়ায় গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। শনিবার সপরিবারে চট্টগ্রামে ফিরেছি। রাস্তায় তেমন যানজটে পড়তে হয়নি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আগে পৌঁছে গেছি মনে হয়েছে। এখন সবার আবার কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। এখনো অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকলেও রাস্তায় গাড়ির চাপ আগের মতোই দেখা যাচ্ছে।
একই কথা বললেন কুমিল্লা থেকে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা অর্নব চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ঈদ যদিও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের উৎসব, কিন্তু উদযাপন করি সবাই মিলেই। ব্যাংকের চাকরি জীবনে টানা এতদিন ছুটি পাওয়াও মুশকিল। ঈদের ছুটিতে তাই কোথাও না কোথাও পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে যাই। এবছর ভোগান্তি ছাড়াই ঈদের ছুটি কাটিয়ে অফিসে উপস্থিত হতে পেরেছি।
এবার ঈদের যাত্রায় তেমন ভোগান্তি না থাকলেও ফেরার সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষদের পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে পিএবি সড়কের ছয় লেনের কাজ চলমান থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। তাছাড়া বাস সংকট দেখিয়ে আদায় করা হয়েছে বাড়তি ভাড়া। রাস্তায় বাস সংকট থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে মিনি ট্রাকে করে ফিরেছে শহরে।
এদিকে শহরে ফেরা মানুষজন এরই মধ্যে কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ফলে চিরচেনা শহর তার আপন রূপে ফিরে যেতে শুরু করেছে।
এক সরকারি অফিসের কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, আমাদের ঈদ বলতে সরকারি ছুটির দিন। তাও আবার অফিস খোলার আগের দিন কর্মস্থলে ফিরে আসতে হয়। এবার মোটামুটি ছুটি বেশি উপভোগ করতে পেরেছি। ছুটি শেষ, এখন সবকিছু আগের মতোই। অফিসের ব্যস্ততা, বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ, সাংসারিক ব্যস্ততায় জড়িয়ে পড়েছেন সবাই।
দু’বছর করোনায় ভীতিময় জীবন পার করে যান্ত্রিক নগরজীবন থেকে খানিকটা ফুরসত খুঁজতে মানুষ ঘুরে বেড়ায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। শুধু বিনোদন কেন্দ্রই নয় চট্টগ্রামের ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যান পাহাড়, নদী আর সাগরঘেরা পর্যটন স্পটগুলোতে। টানা দুই বছর করোনায় বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। ঈদের ছুটিতে বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। অন্যদিকে দুই বছর পর নতুন সাজে সেজেছে ফয়’স লেক, সি ওয়ার্ল্ড, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, চট্টগ্রাম শিশু পার্ক, স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ও জাতিতাত্তি¡ক জাদুঘর। বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছাড়াও উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও ভিড় করে মানুষ। বিশেষ করে সিআরবি, বায়েজিদ বোস্তামি মাজার, লালদিঘি, কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, বিপ্লব উদ্যান ও বাটালি হিল এলাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম দেখা গেছে। যদিও ঈদের পর থেকে দিনে দিনে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফয়’স লেকের মার্কেটিং ম্যানেজার বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ঈদের দিন থেকে অনেক দর্শনার্থী ছিলো। ঈদের পরের দুইদিন সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিলো। এখন অফিস-আদালত চালু হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুল-কলেজও খুলছে। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। ঈদের আমেজ চার-পাঁচ দিনের বেশি থাকে না। ঈদের আমেজ কমার সাথে সাথে পার্কের দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে যায়।