স্বপ্নের স্কুল

5

 

যে ছেলেটি আকাশের ক্যামরায় তাকিয়ে আছে সে ছেলেটি স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল এসময়ে। মার্চ ২০২০ থেকে করোনাকালিন সময় থেকে স্কুল বন্ধ, তাই তার কৃষক বাবা চারটি ষাড় আর পাঁচটি মহিষ দিয়ে ১০ কিলোমিটার দূর পাহাড়ে গোচরণে পাঠিয়ে দিয়েছে। সাতকানিয়ার মির্জারকীল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র নাম তার রাইয়ান ক্লাস সিক্স পড়ে, স্কুল বন্ধ, অনলাইন ক্লাসের ঝামেলা নেই। আমি জিজ্ঞেস করলাম স্কুলে যেতে পারছো না বলে মন খারাপ হয় না ? মুখে না বললেও রাইয়ানের চোখে মুখে স্পষ্টতায় বুঝতে পারি এই খরা রৌদ্র দাপদাহে গোচারণ কার ভাল লাগে বলুন, তার চেয়ে স্কুলই অনেক ভাল ছিল। ক্লাস শেষে মাঠে খেলতাম, আর এখন সারাদিন গোচারণে খেলতে পারি। রাইয়ানের মতো অনেকে স্বপ্ন বিভোর কখন স্কুলে যাবে? ক্লাসের শেষ ঘণ্টার পর নীল আকাশের নিচে সবুজ ঘাসে দৌড়াদৌড়ি করতে পারবে। হয়ত কোভিডের পর স্কুল খুললে এ ধরনের শত শত রাইয়ান আর স্কুলেই ফিরবে না। কারণগুলোর সবার কাছেই জানা- কোভিডে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কেউ হারিয়েছেন চাকরি, কেউ হারিয়েছেন ছোট, বড়, মাঝারি ব্যবসার পুঁজি। আবার প্রবাসে সবকিছু হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে এখন দেশে। করোনার কারণে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর দারিদ্র্য আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এছাড়া নতুন নতুন পরিবারও দরিদ্র হয়েছে। অনেকের আর্থিক সংঘতি রেখে স্থান পরিবর্তন। করোনা কালিন ভাড়ার জন্য শহরঞ্চালে মধ্যবিত্তের কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণ ছাড়াও আরো নানাবিধ কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে।করোনাকালে প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আর স্কুলে ফিরবে না। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে অনেক ছেলে-মেয়ে হয়ত স্কুলে না এসে অন্য কাজ-কর্মে যুক্ত হয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতার কারণ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দারিদ্র্যতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই যুক্ত হয়েছে শিশুশ্রমে। পরিবারের আয় বাড়ানো তাগিদে স্কুল শিক্ষার্থী ছেলে মেয়েদের কাজে লাগিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়াও কিন্ডারগার্টেন ও এমপিওভুক্ত নয় তেমন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রয়েছে দুরবস্থায়। গত দেড় বছরে বেশির ভাগ স্কুলেরই শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ নেই। এসব স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী নানা কাজে যুক্ত হয়েছে, অনেকে আবার স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে এই স্কুলগুলোর অনেক শিক্ষার্থীই ক্লাসে না ফিরলে ঝরে যাওয়ার সম্ভবনা। তবে ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিক্ষক মহাদয়ের নিকট আবেদন থাকবে যারা স্কুলে আসবে না তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষক সমাজের সর্বোচ্চ চেষ্টায় অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীর সমস্যা চিহ্নিত করে উদ্যোগ নিতে পারলে কোভিড পরবর্তী শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধ করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী স্বপ্নের স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবে আবার।