স্ট্রিমকার : দুজনের অ্যাকাউন্টে ১৩ কোটি টাকার লেনদেন

20

দেশে নিষিদ্ধ ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্ট্রিমকার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছেন; যাদের ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে এক বছরে মোট ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক কামরুল আহসান জানান, বুধবার রাতে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে নিধু রাম দাস ও ফরিদ উদ্দিন নামে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্ট্রিমকার পরিচালনায় জড়িত প্রত্যেকের একাধিক ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলেছে জানিয়ে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক-ভিপিএন ব্যবহার করে দেশ থেকে অ্যাপটিতে যুক্ত হতেন ব্যবহারকারীরা। এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিশেষ কিছু চক্র এক ধরনের অপরাধজনক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেখানে তরুণীদের হোস্টিং করিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ উপার্জন করা হতো। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে’।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার নিধু রামের ব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস-এমএফএস সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে ১০ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে।গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি ফরিদ উদ্দিনের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে একই সময়ে প্রায় তিন কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তাদের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এর আগে ১৮ মে দেশে নিষিদ্ধ ‘স্ট্রিমকার’ নামের এই লাইভ ভিডিও ও চ্যাট অ্যাপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষায়িত অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। ওই সময় গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে একজন তরুণীও ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করেদুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগের গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯ মে সাভার থানায় দায়ের করা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এই ইউনিটের গোয়েন্দারা, ওই মামলার এবং আগের অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে বুধবার রাতে নিধু রাম ও ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ব্যাংক চেক বই, ডেবিট কার্ড, বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুলিশের সাইবার গোয়েন্দাদের এই ইউনিট বিদেশ থেকে পরিচালিত স্ট্রিমকারের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালানোর তথ্য অনেক দিন থেকে অনুসন্ধান করছে।
সিপিসির চলমান অনুসন্ধানে ১৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেন।
স্ট্রিমকারের মাধ্যমে কিভাবে দেশে কার্যক্রম পরিচালনা এবং অর্থ পাচার করা হয় তা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক কামরুল আহসান বলেন, ‘এই অ্যাপে দুই ধরনের আইডি রয়েছে। ইউজার বা ব্যবহারকারীর আইডি ও হোস্ট আইডি। হোস্ট আইডি ব্যবহার করে বিশেষ কিছু চক্র এক ধরনের অপরাধজনক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেখানে তরুণীদের হোস্টিং করিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ উপার্জন করা হতো। এদের টার্গেট মূলত যুব সমাজ ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা’।
তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা স্ট্রিমকার অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে এই কার্যক্রম পরিচালনায় বিনস ও জেমসনামের দুটি ডিজিটাল টাকা ব্যবহার করে। এই লাইভ ভিডিও ও চ্যাট আপে সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে আড্ডার লোভ দেখিয়ে লোকজনকে টেনে নিয়ে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলত। তারা এক লাখ বিনস এক হাজার ২০ টাকায় এবং এক লাখ জেমস ৬০০ টাকায় বিক্রি করত’।
টাকা সংগ্রহের বর্ণনা দিয়ে ঊর্ধ্বতন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘এই টাকা সংগ্রহ করা হতো বিভিন্ন এমএফএস ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। দেশের এজেন্সিগুলো তা কিনে আনে বিদেশি অ্যাপের অ্যাডমিনদের কাছ থেকে। স্ট্রিমকারের এরকম অনেক এজেন্ট রয়েছে বাংলাদেশে। তারাই ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল টাকা কেনাবেচা করে। লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, নেটেলার, স্ক্রিল ও বিদেশি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল টাকা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে’। খবর বিডিনিউজের