স্কুল শিক্ষিকার উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ

10

 

দিন দুপুরে বাড়িতে ঢুকে মরিয়ম আশ্রম স্কুলের শিক্ষিকা ও তার পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই শিক্ষিকা গুরুতর আহত হন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা সুমি আক্তার ও তার পরিবার।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষিকা সুমি আক্তার বলেন, আমার এলাকায় ত্রাস নামে খ্যাত আব্দুস শুক্কুর পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় একজন চিহ্নিত তেল চোরা কারবারী, ভ‚মিদস্যু এবং জলদস্যু। তিনি দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে কর্ণফুলী নদীর বহির্নোঙরে থাকা তেলবাহী জাহাজ থেকে অবৈধ তেল চোরাচালানে জড়িত রয়েছেন। সরকারের অনুমোদিত ডিলার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানিতে জ্বালানী তেল সরবরাহকারী জাহাজ থেকে দৈনিক কয়েক হাজার লিটার তেল, ডিজেল ও অকটেনসহ বিভিন্ন দামী যন্ত্রাংশ লুট করে কম দামে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছেন আব্দুস শুক্কুর। গত কয়েক বছর ধরে তার বড় ছেলে মনির ইয়াবা, কেসিনো ও অনলাইন ভিত্তিক জুয়ার আসর পরিচালনা করে কর্ণফুলী এলাকায় অনেকগুলো কিশোর গ্যাং গড়ে তোলে। তার অন্য ছেলে দেলোয়ার এবং হৃদয় এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাÐ পরিচালনা করছে। তারা কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের পাইপের গোড়া, ডাঙ্গারচর গ্রামে বিভিন্ন প্রকার ভ‚মির অবৈধ দখলদার, চাঁদাবাজী ও বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাÐ করে সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে। তাদের এই ত্রাসের রাজত্বের খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
এর পেছনে আমি ও আমার পরিবার জড়িত সন্দেহে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আমার ডান হাতে ছুরিকাঘাত করে, আরেকটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার বৃদ্ধ পিতার বাম হাতে তিনটি কোপ দেয়। আমার মা’কে চুলের মুঠি ধরে লাঠি ও কিল ঘুষি মেরে আহত করে। বড় ভাইকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে কিল-ঘুষি মেরে জখম করে।
সুমি আক্তার বলেন, আমার আঘাত গুরুতর হওয়ায় আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনার পর আমরা অত্যন্ত অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করার পরও পুলিশ প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এতে দিন দিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এলাকায় অনৈতিক কর্মকান্ড করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। প্রশাসনের কিছু দুষ্কৃতিকারী ও রাজনৈতিক নেতাকে মাসোহারা দিয়ে আরও বেশি উগ্র হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে তারা। বর্তমানে আমরা ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছি। এলাকায় যেতে সাহস পাচ্ছি না।
এমতাবস্থায় ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি মহোদয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের জীবন জীবিকায় নিরাপত্তা প্রদান ও দোষী ব্যক্তিদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার পূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে মো. রুবেল, মো. ইলিয়াস, জরিনা খাতুনসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।