সোশ্যাল মিডিয়ায় যতকথা

3

                                        শিক্ষক

অনুপ্রভা বড়ুয়া

আমাদের সময়ে শিক্ষকরা বেদম প্রহার করেছে। পড়া না পারার কারণে হোক, বেয়াদবি করার কারণেই হোক, কিংবা স্কুল কামাই করার কারণেই হোক, বা শিষ্টাচার শেখানোর জন্যেই হোক! বেতের আঘাতে হাঁটতে পারেনি অনেকে! অনেক সময় চাকা চাকা হয়ে উঠেছে গা! তথাপি, পরিবার শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন নালিশ করেনি! বরং উল্টো বলে এসেছে, ‘হাড্ডি আমার, মাংস আপনাদের’… বলে এসেছে, আপনারা শুধু শিক্ষকই নন, আপনারা গুরুজন। এখনো সেসব শিক্ষকদের সাথে একসাথে বসে চা খেতে বুক কাঁপে, এখনো শ্রদ্ধায় মস্তক অবনত হয়… কিন্তু এখন সময় ভিন্ন! পৃথিবীতে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে! গ্রামে আজ সোডিয়ামের বাতি জ্বলে, ঘরে ঘরে স্টার জলসা চলে, হাতে হাতে চলে মোবাইল ফোন! আগে পরিবার পরিকল্পনার কাজ ছিলো জনসংখ্যা কমানো। বলতো, ‘দুটোর বেশী নয়, একটি হলে ভালো হয়’! আর আজ সন্তান লাভের আশায় ডাক্তারের চেম্বারে চেম্বারে ঘোরে! মাদ্রাজ, বম্বে পর্যন্ত বাদ যায়না। তারপরে গিয়ে হয়তো একটি অথবা দুটি সন্তানের জন্ম হয়ে থাকে। সেই সন্তানের গায়ে হাত দিতে দিবে নাকি আপনাকে? অসম্ভব! তুমি শিক্ষক। শিক্ষা দান করা তোমার দায়িত্ব। তোমার কাজ ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে সুন্দর শব্দ চয়নে জ্ঞান-গরিমার কথা বলা।পাঠের তরজমা করা… সেটা কেউ শুনুক, আর না শুনুক!
তারা স্বাধীন! তারা সবকিছু করতে পারে! তুমি শিক্ষক, তুমি পরাধীন! তোমার হাত-পা বাঁধা! তোমাকে এখন মেপে মেপে চলতে হবে, মেপে বলতে হবে, মেপে করতে হবে! তুমি হচ্ছো জীবন নাটকের একজন ডেলিভারি ম্যান/ওম্যান। সিলেবাসের জ্ঞান ডেলিভারি দেয়া তোমার কাজ।এর বেশী কিছু করতে যেও নাহ্! তাই, শিক্ষক এখন আর গুরুজন নন! শুধুই ‘শিক্ষক’!

 

                        মানুষের মূল্য বৃদ্ধি পাবে তো?

তাওহীদুল ইসলাম নূরী

৫ আগস্ট রাতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাবটা জনজীবনে খুবই মারাত্মকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে দিন দিন। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, কাঁচা মরিচ, রসুন, আটা, ময়দা, চিনি, মুরগী এবং ডিমসহ অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় বিশ শতাংশ বেড়ে গেছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এক হালি ডিম ৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগী কেজি ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে বর্তমানে। চালের দাম কেজিতে ৩-১২ টাকা বেড়ে গেছে। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে সহজেই সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকছে সেটা অনুমান করা যাবে। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নয়, উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচা মালের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধগুলোর দামও প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম ও ঢাকা ওয়াশা পানির মূল্যও বাড়িয়েছে স¤প্রতি। একদিকে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, জ্বালানি তেল, ঔষুধসহ অনান্য জিনিসপত্রের দাম তো ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তেই আছে। কিন্তু, মানুষের মূল্য তথা বেতন-মজুরি কি এক টাকাও বেড়ছে? যদি এভাবে মানুষ ছাড়া সব কিছুর দাম বাড়তে থাকে তাহলে মানুষ কীভাবে দিন পার করবে? সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের চাপা কান্না যেন কেউ দেখেও দেখছে না, কারো কানে যাচ্ছে না তাদের আর্তনাদ। কিছু দিন আগে দেশের একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে দেখা যায়, ৩২ হাজার টাকা বেতনের চাকুরীজীবীদেরও শহরে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ৮-১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কীভাবে চলবে? দুই দিন আগেও দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণের জন্য চা শ্রমিকরা আন্দোলন করেছেন। অভাবের তাড়নায় মাত্র ১২ হাজার টাকায় পেটের সন্তানকে বিক্রির জন্য বাজারে নিলামে তুলতে দেখা গেছে একজন অসহায় মাকে। প্রকৃত পক্ষে, মুষ্ঠিমেয় কিছু সংখ্যক মানুষ ছাড়া দেশের সিংহভাগ মানুষ খুবই কঠিন সময় পার করছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দেয়াটা সরকারের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই, সরকারকে বিষয়টি নিয়ে যুগপৎ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবিলম্বে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকুরীজীবী ও শ্রমিকদের বেতন-মজুরি বাড়ানোর নির্দেশনা জারি করতে হবে। নয়তো অদূর ভবিষ্যতে দু বেলা দু মুঠো ভাত মুখে দেয়াটা অনেকের কাছে চরম নির্মমতা হিসেবে ঠেকবে। সাথে সাথে সকল প্রকার পণ্য দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।