সেমাই-চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ চাই

6

সামনে ঈদ! ঈদকে কেন্দ্রকেরে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। আমাদের দেশে ঈদুুলফিতর তথা রমজানের ঈদ শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব মাত্র নয়। এখানে হিন্দু, খৃস্টান, বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগী করে থাকে। ৯৩ শতাংশ মুসলিমের এ দেশে রমজানের ঈদের ছুটি একটি সার্বজনীন ছুটি। তা ছাড়া এদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বাড়িতে যেমন বসবাস করে, তেমনি একই অফিস আদালতে একসাথে কাজ করে থাকে। সে কারণে মুসলমানদের রমজানের ঈদ ধর্মীয়উৎসবে ছাড়িয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, মুসলমানদের মতো হিন্দু পরিবারসমূহ রোজা না রাখলেও সন্ধ্যায় ইফতার করতে দেখা যায়। একই ভাবে ঈদের ছুটিতে এদেশে সব ধর্মের লোক সামাজিকতা রক্ষায় যতœশীল হতে দেখা যায়। ঈদে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই একে অপরের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঈদ উপলক্ষে দেশের মানুষ একটু বাড়তি মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার প্রস্তুত করে থাকে। মানুষের আবেগজনিত বিষয়কে পুঁজি করে ঈদের সময় সেমাই-চিনি, কিসমিস, বাদাম, নুডুলস্সহ নানা জাতের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বাড়তি নিতে দেখা যাচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দেশে সময়ে অসমেয় নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দু’পয়সা ক্রেতাসাধারণের নিকট হতে হাতিয়ে নেয়ার তালে থাকে। বাজারে প্রতি কেজি সেমাই এবং চিনির মূল্য ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি নিতে দেখা যাচ্ছে। ভোগ্য তেলের দাম আগে থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হঠাৎকরে পেঁয়াজও বাড়তি দামে বিক্রি করছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ গরিব। দিনে এনে দিনে খায় এমন দীন-মজুরের সংখ্যা সচ্ছল প্রকৃতির লোকের চেয়ে বেশি।
দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঈদ উপলক্ষে একটু সেমাই মিষ্টি পায়েস নুডুলস্, বিরানী, পোলাও ইত্যাদি বাসায় তৈরি করে খেতে চায়। তা ছাড়া সকলেই চায় এসব মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে ঈদে অন্যদের মেহমানদারি করতে। সচ্ছল নাগরিকদের জন্য ঈদের কেনাকাটা আহমরি কিছু না হলেও দরিদ্র খেটেখাওয়া মানুষের জন্য ঈদের সেমাই চিনির বাজার একটা বড় ব্যাপার। যারা দু-বেলা খাবার জোগাড় করতে পারে না তারা রমজানের ঈদের মতো ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে সেমাই চিনি জাতীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল দেখতে চায়। অথচ অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম ভাবে ঈদ-পণ্যের দাম অবৈধ ভাবে বৃদ্ধি করছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারী জরুরি।
অসাধু ব্যবসায়ীরা দেশের যে কোন পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে ক্রেতাসাধারণকে জুলুম করে থাকে। আসন্ন ঈদে ঈদকেন্দ্রিক নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ভাবে দ্রæত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অকারণে যে সকল ব্যবসায়ী সেমাই চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাড়তি মূল্যনেয়, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশের নিত্য-পণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন এমন দাবি সর্বসাধারণের।