সেপ্টেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড়

25

রাহুল দাশ নয়ন

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে ১৫টি ওয়ার্ড ও পাঁচটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিভক্ত করে প্রাথমিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো আপত্তি না থাকলে আগামী মাসেই এ তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। ওয়ার্ডের সীমানা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই নির্বাচন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হবে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। বর্তমানে দেশের সবক’টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম। গত ২৭ এপ্রিল তাঁকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়।
জানা যায়, প্রথমবার জেলা পরিষদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। সেবার তিনটি উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নকে বহাল রেখে তিনটি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ হয়েছিল। বাকি ১২টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩-৬টি ইউনিয়নকে সংযুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডকে একটি ওয়ার্ডে রাখা হলেও এবার তা ভেঙ্গে চারটি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হচ্ছে। একইভাবে এবার ১১টি উপজেলার স্ব-স্ব ইউনিয়নকে রেখেই ১১টি ওয়ার্ডের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। গত ২৩ জুন জেলা পরিষদের সীমানা নির্ধারণে প্রস্তাবনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি সভা হয়েছে। সভায় সীমানা নির্ধারণের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হয়েছে। কোথায় কোন ওয়ার্ডকে বিভক্ত করা হয়েছে সেটি আমার এখন মনে নেই। স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক ভালো জানবেন।’
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ অধিশাখা থেকে সীমানা নির্ধারণের জন্য চিঠি দেয়া হয়। এ চিঠি পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে গত ২৩ জুন চট্টগ্রাম জেলাকে ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও পাঁচটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ওয়ার্ডের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সীমানার বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে তা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে জানাতে বলা হয়েছে।
জেলা পরিষদের বিগত নির্বাচনে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ক্রমিকে আনা হয়েছে পরিবর্তন। এরমধ্যে মিরসরাই, স›দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সবগুলো ইউনিয়নকে স্ব-স্ব ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। অতীতে মিরসরাই, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সীতাকুন্ড, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়ার সাথে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইউনিয়ন যুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। একইভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪১টি ওয়ার্ডকে পৃথক ওয়ার্ড হিসেবে রাখা হয়েছিল। এবার চসিক এলাকার ৪১টি ওয়ার্ডকে কর্ণফুলী, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, আনোয়ারা, বোয়ালখালী উপজেলার সাথে যুক্ত করে ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচিত এক সদস্য বলেন, ‘গতবার নির্বাচনের আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা নিয়ে অনেক আপত্তি ছিল। একটি উপজেলার সাথে আরেকটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন যুক্ত করে দেয়ায় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। যেমন সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত সদস্যের বাড়ি এক উপজেলায়। তিনি আরেকটি উপজেলার তিন ইউনিয়ন থেকেও নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু উন্নয়ন বরাদ্দে দেখা গেছে তিনি নিজ উপজেলা ছাড়া অন্য উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে কোনো বরাদ্দ দেননি। এবারের সীমানা নির্ধারণে যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে সেটি বহাল থাকলে সবার জন্য ভালো হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শাব্বির ইকবাল বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই অনেক কাজ এগিয়ে যাবে।’
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের কোনো চিঠি এখনো হাতে পাইনি। তবে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এ নির্বাচন হতে কোনো বাধা আছে বলে মনে হয় না।’
সূত্র জানায়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জেলা পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ও নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো এ সংক্রান্ত কাজও এগিয়ে নিয়েছে। জেলা পরিষদ আইন অনুসারে, জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে। সে হিসেবে গত বছর আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন সংশোধন করে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। গত ছয় এপ্রিল জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদ আইনের ওই সংশোধনী বিল পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৩ এপ্রিল গেজেট হয়। প্রথমে প্রধান নির্বাহীকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হলেও পরে সারাদেশের সকল জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যানদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়।